সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৯ পূর্বাহ্ন

ফটিকছড়িতে বিএনপির সাথে জামায়াতের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

Reporter Name / ১১২ Time View
Update : সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি। সম্প্রতি রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এরমধ্যে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম উপজেলা ফটিকছড়িতে লেগেছে ভোটের হাওয়া। শুধুমাত্র এ উপজেলা নিয়ে গঠিত (চট্টগ্রাম-২) আসন। এ আসন থেকে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি’র বেশক’জন নেতা মনোনয়ন প্রতিযোগিতায় আছেন। আর আওয়ামী লীগবিহীন সম্ভাব্য নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী ঘোষণা করে ভোটযুদ্ধে নেমে পড়েছে। সাংগঠনিক ভিত্তি শক্ত না হলেও হেফাজত আমীরের জন্মস্থান হওয়ায় সমমনা ইসলামী দলের কয়েকজন প্রার্থীও ভোট করবেন বলে জানিয়েছেন।

বিএনপি’র নীরব ভোট ব্যাংক ফটিকছড়ি। জামায়াতেরও আছে শক্তিশালী রিজার্ভ ভোট। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রার্থী সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী মহাজোটের প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা পেয়ারুল ইসলামকে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হন। এছাড়া বাকি সব নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। এ কারণে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি বলে পরিচিতি পায় আসনটি। গুরুত্বপূর্ণ আসনটিকে নিয়ে এবার তাই রাজনৈতিক দলগুলোর হিসাব-নিকাশ নতুনভাবে মেলাতে হচ্ছে। নতুন প্রেক্ষাপটে আগামী নির্বাচনে এই আসনটিতে বিএনপি’র সঙ্গে জামায়াতের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

বিএনপি’র বেশ কয়েকজন নেতা ধানের শীষের মনোনয়ন যুদ্ধে আছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কর্নেল (অব.) আজিমুল্লাহ বাহার চৌধুরী, উত্তর জেলা বিএনপি’র সদ্য বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সরওয়ার আলমগীর, বিএনপি’র কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সহ-সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বিচারপতি (অব.) ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজী ও উত্তর জেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ সালাহউদ্দিন।

দীর্ঘদিন ধরেই ফটিকছড়িতে বিএনপি’র একাংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কর্নেল আজিমুল্লাহ বাহার। বর্তমানে তিনি উপজেলা আহ্বায়ক। প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের সাবেক এ প্রধান ব্যক্তিগতভাবেও সজ্জন বলে পরিচিত। তিনি দৌলতপুরে ঐতিহ্যবাহী গনি মিয়া চৌধুরীর নাতি। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি’র টিকিটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সে সময় তিনি আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের হাতে হামলার শিকার হয়েছিলেন। বর্তমানে দলের হাইকমান্ডের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ আছে সাবেক এ সেনা কর্মকর্তার। আজিম উল্লাহ বাহার মানবজমিনকে বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। দল মনোনয়ন দিলে ইনশাআল্লাহ্‌ আমি নির্বাচিত হবো। নির্বাচিত হলে ফটিকছড়ির স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নয়নের দিকে বিশেষ নজর দিবো। মনোনয়ন যুদ্ধে এগিয়ে থাকা আরেকজন শিল্পপতি সরওয়ার আলমগীর। তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক। দলের দুঃসময়ের এই নেতা তৃণমূলে বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ২৮শে অক্টোবর পরবর্তী বিএনপি’র কঠিন সময়ে মাঠে ছিলেন। বিএনপি’র নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বিপদাপদেও আর্থিক সহযোগিতার কারণে সুখ্যাতি আছে তার। এছাড়া হেফাজত আমীর মহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর খুব কাছের মানুষ বলে পরিচিত তিনি। বাবুনগরীর সঙ্গে সমপ্রতি বিএনপি’র কানেকশনে ভূমিকা রাখায় তিনি তারেক রহমানের গুডবুকে আছেন বলে কথিত আছে। সরওয়ার আলমগীর বলেন, দলের দুঃসময়েও মাঠে আছি। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, ইনশাআল্লাহ্‌ আসনটি উপহার দিতে পারবো।

এ দিকে বিবদমান দু’পক্ষের সংঘাতের জেরে সমপ্রতি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত হয়। এরপর আর কাউকে দায়িত্ব দেয়া হয়নি। গুঞ্জন উঠেছে আজিমুল্লাহ বাহার বা সরওয়ার আলমগীরের যে কোনো একজনকে আসন্ন কমিটিতে শীর্ষ দুই পদে দায়িত্ব দেয়া হবে। আর বাকি একজনকে নির্বাচনে ধানের শীষের টিকেট দেয়া হবে। আসন্ন উত্তর জেলা কমিটির পরেই ফটিকছড়ি আসনে প্রার্থী কে হবেন তা নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে বিএনপি’র একটা সূত্র। দলীয় পদ পেলে সংসদ সদস্য হিসেবে মনোয়ন দেয়া হবে না- এমন প্রসঙ্গে কর্নেল আজিমুল্লাহ বাহার বলেন, এটি সম্পূর্ণ গুঞ্জন। এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত দলীয় ভাবে নেয়া হয়নি। অপরদিকে জামায়াত থেকে চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির চট্টগ্রাম মহানগরী সেক্রেটারি ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. নুরুল আমিন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফটিকছড়ির বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। যুব সমাজের কাছেও বেশ সুনাম রয়েছে। উপজেলাজুড়ে থাকা জামায়াত-শিবিরের কর্মীবাহিনী এরমধ্যে ভোটযুদ্ধে নেমে পড়েছেন। সব মিলিয়ে আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থীর সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে সাবেক এ ছাত্রনেতার।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ মো. নুরুল আমিন বলেন, ফটিকছড়ির মাটি ও মানুষের সঙ্গে আমার আত্মার সম্পর্ক। আমরা ফটিকছড়ি থেকে কখনও পালিয়ে যায়নি, হারিয়েও যায়নি। সুখে-দুঃখে সবসময় ফটিকছড়িবাসীর পাশে ছিলাম। একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় আমি সবার সহযোগিতা চাই। এদিকে, ফটিকছড়ি থেকে কওমি ও মাজারপন্থি কয়েকজন আলেম নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় দৌড়ে আছেন। কওমি ঘরানার তথা হেফাজত ঘনিষ্ঠ আলেমদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- মাওলানা মামুনুল হকের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা আশরাফ বিন ইয়াকুব, নেজামে ইসলামের প্রার্থী শায়েখ শাহজাহান। তরীকত ও মাজারপন্থি হিসেবে পরিচিত মাওলানা এমএ মতিন এবং সাইফুদ্দিন মাইজভাণ্ডারীও এই আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী। কওমি ঘরানার আলেমদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মাঠে আছেন মাওলানা আশরাফ বিন ইয়াকুব। তরুণ এ আলেম আততায়ীদের হাতে নিহত সাবেক ছাত্রনেতা আশরাফ বিন ইয়াকুবের ছোট ভাই। হেফাজতে ইসলাম কওমি ঘরানার নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তার রয়েছে ভালো যোগাযোগ। তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে মাঠে আছি। এ জনপদে আলেম-উলামাদের অবস্থান খুব সুসংহত। সংসদে তৌহিদী জনতার কণ্ঠস্বর হতে চাই। সব ইসলামী দল এক হয়ে কাজ করলে আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা

সম্পাদকীয়

সম্পাদক ও প্রকাশক