মোঃ সোহরাব আলী তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি : তেঁতুলিয়া উপজেলায় বালু এলাকাও টিলা জমিতে চাষীরা ধানের বদলে হাজার হাজার একর চা আবাদ করে। সারের অভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে পঞ্চগড় জেলা সহ রংপুর বিভাগের ৫ জেলার সমতলে চা শিল্পের জন্য কৃষি বিভাগে কোন সার বরাদ্দ নেই। তীব্র সার সংকটে চা চাষীরা সঠিক সময়ে বাগান পরিচর্চা করতে পাচ্ছে না। যে কারনে বাগানে দেখা দিচ্ছে নানা রকম পোকা-মাকড় সহ আগা-ডগা পচন রোগ।
তেঁতুলিয়া সদরের সাহেবজোত গ্রামে চা চাষী হাফিজুর রহমান খোকন ও মাগুড়া গ্রামের চা চাষী আব্দুল লতিফ ও পঞ্চগড় সদরের দুলাল জানান, আবহাওয়া ও জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে বাগানে মশক, লাল মাকড়, কারেন্ট পোকা ও লোফার সহ নানা জাতের পোকা আর মাত্রারিক্ত পাতা ও ডগার কুঁড়ি পচন রোগ বালাইয়ের আক্রমণ বেড়েছে। এখন বাগান টিকিয়ে রাখতে উৎপাদন খরচ দ্বিগুন বেড়েছে। কিন্তু সারের অভাবে বাগানে সঠিক সময় পরিচর্চা করা সম্ভব হয় না। এদিকে উপজেলা কৃষি অফিসে গেলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান চা শিল্পের সার বরাদ্দ নেই। ফলে শেষের দিকে এসে সবুজ কাঁচা চা পাতার ভালো পেয়েও মনে স্বস্তি নেই।
বাংলাদেশ চা বোর্ড আঞ্চলিক কার্যালয়, পঞ্চগড় অফিস সূত্রে জানা যায়, রংপুর বিভাগের পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলায় ১২ লাখ ১০ হাজার ৬৬০ একর সমতল জমিতে ক্ষুদ্র ও বৃহৎ পরিসরে চা-আবাদ হয়েছে। রংপুরের ৮টি জেলায় ৯টি নিবন্ধিত চা বাগান, ২১টি অনিবন্ধিত চা বাগান এবং ৮ হাজার ৬৭টি ক্ষুদ্রায়তন চা বাগান (নিবন্ধিত ১৭৪৫) মোট ১১ হাজার ৪৩৩ দশমিক ৯৪ একর সমতল জমিতে চা চাষ হয়েছে। পঞ্চগড় চা বোর্ডের অধীন ৫টি জেলায় অনুমোদিত টি কারখানা রয়েছে ৫৮টি তদ্মধ্যে উৎপাদনে আছে ২৮টি। গত বছর সমতলে চায়ের উৎপাদন হয়েছিল ১ কোটি ৪৪ লাখ কেজি। এবার তা দুই কোটি কেজি ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা চা বোর্ডের।
পঞ্চগড় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল মতিন জানান, কৃষি বিভাগ শুধু কৃষি উৎপাদনের জন্য জেলায় প্রয়োজনীয় সার বরাদ্দ চেয়ে থাকে। আর যতটুকু সার বরাদ্দ মিলে তা কৃষির জন্য লাগে। অপরদিকে চা চাষের জন্য প্রতি রাউন্ডে বিপুল পরিমাণ সারের প্রয়োজন। কিন্তু সার বরাদ্দ থাকায় চা চাষীদের সার পাচ্ছে না। যেহেতু চা একটি শিল্প এবং অর্থকরী ফসল এটার সার বরাদ্দ দিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বা শিল্প মন্ত্রণালয়। এক্ষেত্রে উত্তরাঞ্চলের চা চাষীদের জন্য বাংলাদেশ চা বোর্ড সার চেয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে চা চাষীদের সমস্যা লাঘব হবে।
বাংলাদেশ চা বোর্ড পঞ্চগড় জোনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, আরিফ খান বলেন, চা আবাদের জন্য কৃষি বিভাগ সার বরাদ্দ দিবে না উপ-পরিচালক সঠিক কথা বলেছে। আমাদের সিলেট অঞ্চলে চা বাগানে চাষীদের জন্য বাংলাদেশ চা বোর্ড সেখানকার কারখানার মালিকদের বানিজ্য মন্ত্রণালয় ও শিল্পমন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সার বরাদ্দ দেন এবং কারখানা থেকে চা চাষীরা ন্যার্য দামে নিতে পারে। কিন্তু উত্তরাঞ্চলের সমতলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি চা চাষীদের সেই প্রক্রিয়ায় সার প্রদান করা একটু কষ্টসাধ্য। কারণ এই চা চাষীরা সবাই এখনো নিবন্ধন করে নাই। যে কারণে উত্তরাঞ্চলে চা কারখানার মালিকরা সার নিতে পারছে না। তবে আমরা বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে শিল্পমন্ত্রণালয়ে একটি চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে যার মাধ্যমে কৃষি বিভাগকে সার বরাদ্দ দেয়া হবে। পরে তাদের নিবন্ধিত সার ডিলারের কাছে চাষীরা সার ন্যার্য মূলে কিনতে পারবে।
জেলা প্রশাসক মো. সাবেত আলী জানান, চা চাষীদের সার সংকটের বিষয়টি নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। চা নিয়ে পঞ্চগড়ে চাষি ও কারখানার মালিকদের সঙ্গে নৈরাজ্য ছিল সেটা নিরসন করা হয়েছে। বর্তমানে চাষিরা মানসম্মত পাতা সরবরাহ করায় পঞ্চগড়ের চায়ের গুণগতমান উন্নত হওয়ায় অকশন মার্কেটে চায়ের দর বেড়েছে। এ বিষয়ে জোর নজরদারি করা হচ্ছে ।