শিরোনাম :
আফতাব নগরেই সাব-রেজিস্টার মাইকেলের ২৯ ফ্ল্যাট পঞ্চগড়ে পিপি-জিপি নিয়োগের প্রজ্ঞাপন স্থগিতের দাবিতে আইনজীবীদের সংবাদ সম্মেলন শান্তিগঞ্জে প্রতিবন্ধির জমির ধান কাটা ও হামলার ঘটনায় মানববন্ধন কুমিল্লায় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কর্মপরিকল্পনা বিষয়ক অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালা তেঁতুলিয়ায় দলিল লেখক সমিতির দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে সামসুল সভাপতি ও রাব্বানি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত  দিরাই-শাল্লায় তীব্র লোডশেডিং : অন্ধকারে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমাণ পণ্যসহ পাচারকারী গ্রেফতার বিশ্বম্ভরপুরে যুবকের গলা কাটা লাশ উদ্ধার তনু হত্যা মামলায় সেনাবাবিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই আমার দেশ বুড়িচং প্রতিনিধির উপর সন্ত্রসী হামলা
শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১০ পূর্বাহ্ন

শাল্লায় ভিজিডি তালিকায় ভয়াবহ জালিয়াতির অভিযোগ

Reporter Name / ৯১ Time View
Update : শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬

তৌফিকুর রহমান তাহের, সুনামগঞ্জ বিশেষ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার বাহাড়া ইউনিয়নে ভিজিডি (বর্তমানে ভিডব্লিউবি) কার্ডের তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। ৩ নং বাহাড়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সদস্য মোঃ আলমাছ মিয়ার বিরুদ্ধে সরকারি এই সুবিধার কার্ড বিতরণে দুস্থদের পরিবর্তে সচ্ছল ব্যক্তি এবং নিজের আত্মীয়-স্বজনদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে ভাটগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুল কাদিরের মেয়ে মোছাঃ শাহানা খাতুন গত ১৫ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাহাড়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ আলমাছ মিয়া দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিভিন্ন সরকারি ভাতার কার্ড (প্রতিবন্ধী, বয়স্ক, বিধবা ও ভিজিডি) করে দেওয়ার নাম করে অসহায় মানুষের কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত ভিজিডি তালিকায় দেখা গেছে, প্রকৃত দুস্থদের নাম বাদ দিয়ে মেম্বারের ঘনিষ্ঠ ও আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিদের নাম অগ্রাধিকার পেয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী নিজ ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কথা থাকলেও, আলমাছ মিয়া টাকার বিনিময়ে পাশের শাল্লা ইউনিয়নের কান্দিগাঁও (চান্দাকোনা) গ্রামের জনৈক শারমিন আক্তারকে নিজ ওয়ার্ডের তালিকায় নাম ঢুকিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া তালিকার অনেক উপকারভোগীর ছেলে বিদেশে কর্মরত এবং অনেকে ব্যক্তিগতভাবে বেশ সচ্ছল হলেও তারা সরকারি এই চালের সুবিধা পাচ্ছেন। তালিকায় মেম্বারের নিকটাত্মীয়দের আধিক্য নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগকারী মোছাঃ শাহানা খাতুন বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, আমাদের হক মেরে মেম্বার বড়লোক আর নিজের আত্মীয়দের নাম দিছে। অন্য ইউনিয়নের মানুষ এসে আমাদের কার্ড নিয়ে যাচ্ছে, আর আমরা চেয়ে চেয়ে দেখছি। আমি এর বিচার চাই।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য মোঃ আলমাছ মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘তালিকায় কোনো অনিয়ম হয়নি, নিয়ম মেনেই সব করা হয়েছে।

শাল্লা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্রে অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শাল্লার সচেতন মহল মনে করেন, সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা যাতে প্রকৃত দুস্থরা পায়, সে জন্য নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই তালিকা সংশোধন করা এবং অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা

সম্পাদকীয়

সম্পাদক ও প্রকাশক