নিজস্ব সংবাদদাতা, বোদা, পঞ্চগড় : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড় জেলায় নারী ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকেই পঞ্চগড়ের ৫টি উপজেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে নারী ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। পুরুষ ভোটারদের তুলনায় অনেক কেন্দ্রেই নারীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো, যা নির্বাচনকে আরও প্রাণবন্ত ও অংশগ্রহণমূলক করে তুলেছে।
পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকার কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পরপরই নারী ভোটাররা কেন্দ্রে আসতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের উপস্থিতি আরও বাড়তে থাকে। নারী ভোটারদের জন্য আলাদা সারির ব্যবস্থা থাকায় ভোট প্রদান প্রক্রিয়া ছিল তুলনামূলকভাবে সুশৃঙ্খল।
বোদা উপজেলার একটি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জানান, সকাল থেকেই নারী ভোটারদের উপস্থিতি বেশ ভালো। অনেকেই পরিবারসহ ভোট দিতে এসেছেন। সামগ্রিকভাবে পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রয়েছে।
বোদা পৌরসভার সাতখামার এলাকার এক নারী ভোটার বলেন, ভোট দেয়া আমাদের অধিকার। সংসার ও কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও আমি সময় বের করে এসেছি। দেশের ভবিষ্যৎ গড়তে আমাদের অংশগ্রহণ জরুরি।
এবারের নির্বাচনে তরুণী ভোটারদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে এসে অনেকেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। এক কলেজছাত্রী তন্নী জানান, প্রথমবার ভোট দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে। এটা আমার নাগরিক দায়িত্ব।
সচেতন মহলের মতে, নারী ভোটারদের এ ধরনের সক্রিয় অংশগ্রহণ গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন এবং রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির প্রতিফলন হিসেবেই এ উপস্থিতিকে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, শিক্ষা বিস্তার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব এবং বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচির ফলে নারীরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আগ্রহী ও সচেতন।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে অধিকাংশ কেন্দ্রেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিল। কোথাও কোথাও সামান্য ভিড়ের সৃষ্টি হলেও প্রশাসনের তৎপরতায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নারী ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল অত্যন্ত ইতিবাচক একটি দিক। এটি ভবিষ্যতে নারী অংশগ্রহণ আরও বৃদ্ধির প্রত্যাশা জাগিয়েছে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নারীর ভূমিকা আরও সুদৃঢ় করেছে।
পঞ্চগড়ে ভোট উপলক্ষে ৬ হাজারের হাজারের অধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ২ টি আসনে মোট ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দুপুর ২টা পর্যন্ত ৪৬ শতাংশ ভোট পড়েছে পঞ্চগড়ের দুইটি সংসদীয় আসন মিলে গড়ে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র থেকে এমনটিই জানা গেছে।
এ দিকে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে জামাদার পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নারীদের লম্বা লাইন ছিলো উল্লেখ করার মতো। লাইনে দাড়ানো দাড়িপাড়া এলাকার নারী ভোটার সখিনা বেওয়া আশংকা প্রকাশ করে বলেন ” এত লম্বা লাইন শেষ করে ভোটের সময় পার হয়ে গেলে আর ভোট দিতে পারবোনা বোধহয় “।