মোঃ সোহরাব আলী, তেঁতুলিয়া পঞ্চগড় প্রতিনিধি : সৌদি আরবের রাস্তায় গাড়ি চালানোর সময় সড়ক দুর্ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে সৌদি আরবের কারাগারে তিন বছর জেল খাটার পর মুক্তি পেয়ে বর্তমানে রিয়াদের ট্রাফিক পুলিশের থানায় বন্দিশালায় দিন কাটাচ্ছে বাংলাদেশের তেতুলিয়া উপজেলার রফিকুল ইসলাম ।অভাবের সংসার পিতার মৃত্যুর পর রফিকুল ইসলাম মায়ের সহযোগিতায় ২০২২ সালে।
পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে ঋণ করে ও জমি বিক্রির টাকা দিয়ে ছোট ছেলে রফিকুল ইসলামকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলেন মোছা. নুরজাহান বেগম। সৌদি আরবে যাওয়ার পর কিছুদিন ভালোই চলছিল পরিবারের কিছুটা স্বচ্ছলতাও ফিরতে শুরু করেছিল। রফিকুল ইসলাম সৌদি আরবে যাওয়ার পর কাজে যোগ যোগদান করে মালবাহী ট্রাকের চালক হিসেবে দায়িত্ব পান। কয়েক মাস যেতে না যেতেই অসাবধানতা বসত তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় মধ্যে পড়ে মামলার আসামি। সে দেশের পুলিশ তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করে এবং সেদেশের প্রচলিত আইনে দোষী সাব্যস্ত হয় এবং রায় হয় ৩ বছর জেল। তিন বছর জেলে সাজা ভোগ করতে হয় রফিকুলের। সাজার মেয়াদ শেষ করে সে দেশের আইন তাকে পুনরায় থানায় হস্তান্তর করে এবং সৌদি আরবের থানাহাজতে বন্দী জীবনযাপন করছে অভাগী নুর জাহানের ছেলে রফিকুল ইসলাম । অভাগী মা নুরজাহান বেগম ছেলের চিন্তায় নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। ছেলের মুক্তির জন্য দেশের প্রশাসন সহ বিভিন্নজনের কাছে ছুটে বেড়াচ্ছেন কিন্তু ছেলেকে মুক্তি করে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের কোন সহযোগিতা পাচ্ছেন না নুরজাহান। ছেলের এ অবস্থায় নুরজাহান বেগম চিন্তায় শারীরিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন ২৪ ঘন্টায় ছেলের চিন্তায় খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে পাগলের মত ছুটে বেড়াচ্ছেন যেখানে সেখানে। নুরজাহান বেগম
পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার তেঁতুলিয়া সদর ইউনিয়নের ভাদুরবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর দুই ছেলের মধ্যে ছোট ছেলে রফিকুল ইসলাম বর্তমানে সৌদি আরবে থানা হাজতে রয়েছেন। অন্য ছেলে বাড়িতেই থাকেন। তিনি বর্তমানে অসুস্থ হওয়ায় কাজ তেমন করতে পারেন না। সৌদি আরবে হাজতে থাকা রফিকুলের স্ত্রী এক শিশু কন্যা সন্তান রয়েছে। রফিক ইসলামের মাতা নুরজাহান বেগম জানান স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট ছেলের এ অবস্থার কথা জানানো হয়েছিল কিন্তু কোন সুব্যবস্থা পাইনি অপরদিকে সৌদি আরবে যে মালিকের গাড়ি চালাত সেও ছেলের মুক্তির জন্য এগিয়ে না আসার কারণে আমার ছেলে দীর্ঘদিন যাবত জেল হাজতে রয়েছে। সৌদি আরবের সেই মালিকের নাম আব্দুল্লাহ আল ছাল্লেহ। তিনি কোন সহযোগীতা করছেন না বলে তার ছেলে রফিকুল ইসলাম সৌদি আরবে জেল খাটার পরও থানা হাজতে খেয়ে না খেয়ে বিপদে পড়ে আছেন। সে এখন সৌদি আরব ট্রাফিক পুলিশ রিয়াদের থানা হাজতে বন্দী জীবন কাটাচ্ছে। এ ব্যাপারে মুঠোফোনে গত শনিবার ২১, ফেব্রুয়ারি রাতে কথা হয় ওই সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক রফিকুল ইসলাম সাথে তিনি জানান আমি বন্দি থাকার কারণে স্থানীয় প্রশাসন এবং বাংলাদেশের দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করার মত কোন মানুষ না পাওয়ার কারণে আমাকে বন্দী জীবন যাপন করতে হচ্ছে। আমি যে মালিকের গাড়ি চালিয়েছি সেই মালিক এত নিষ্ঠুর তিনি আমার কোন খোঁজ খবর এখনও নিচ্ছেন না তিনি একটু সহযোগিতা করলেই আমি এই বন্দি শালা থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরে আমার স্ত্রী পুত্র এবং বৃদ্ধ মায়ের সাথে চলে যেতে পারতাম। এমন কেউ আছেন কি আমাকে এই বন্দী থেকে মুক্তি করে বাংলাদেশে পৌঁছে দিতে পারেন। আমি বর্তমান সরকারের নিকট জোর আবেদন করছি আমাকে এই বন্দিশালা থেকে মুক্তি করে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।