মোঃ ইয়াছিন মিয়া, কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লায় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস (ডিআরআর) ও ঝুঁকি হ্রাস কর্মপরিকল্পনা (আরআরএপি) বাস্তবায়ন সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বুধবার ২২ এপ্রিল দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মুঃ রেজা হাসান।
কর্মশালায় বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ সাইফুল ইসলাম, জেলা প্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবেদ আলী এবং ইয়ং পাওয়ার ইন সোস্যাল এ্যাকশান (ইপসা)-এর প্রজেক্ট ম্যানেজার জহিরুল ইসলাম আবুল বাশার লিটনসহ সংশ্লিষ্টরা।
কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, গ্রাম থেকে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের কার্যক্রম সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে এবং স্থানীয় জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ঝুঁকি নিরূপণ এবং কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা ও তা বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় ও উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সমন্বয় করলে জনগন দীর্ঘ মেয়াদী সুফল পাবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের পর আর কোন সমস্যা আছে কিনা তা তদারকি করতে হবে।
আলোচনায় জানানো হয়, দাতা সংস্থা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)-এর সহায়তায় বাস্তবায়িত প্রকল্পের আওতায় জেলার বিভিন্ন স্থানে অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় জনগণের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে উন্নয়ন স্কিম নির্বাচন করে মোট ৯টি প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ৬ কোটি ৪০ লাখ টাকার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে কিছু কারিগরি জটিলতার কারণে সামান্য অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হয়নি বলে জানানো হয়।
প্রকল্পের আওতায় বন্যা পরবর্তি সময়ে কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় কাঁচা সড়ক সংস্কার ও উন্নয়ন করা হয়েছে, যার ফলে স্থানীয় জনগণের চলাচল সহজ হয়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
বুড়িচং উপজেলায় জগৎপুর, উত্তরগ্রাম, ভবানিপুর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক সড়ক সংস্কার করা হয়েছে। একইভাবে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায়ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যা স্থানীয় জনজীবনে স্বস্তি এনেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পভুক্ত সড়কগুলোর নকশা ও পরিমাপ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়। বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও), এলজিইডি ও উপজেলা প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই সব কার্যক্রম শেষ করেছে।
উল্লেখ্য, কর্মশালাটি যৌথভাবে আয়োজন করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে ইয়ং পাওয়ার ইন সোস্যাল এ্যাকশান (ইপসা)।