আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি : বরগুনার আমতলী উপজেলার সদর ইউনিয়নের মহিষডাঙ্গা গ্রামের ৪নং ওয়ার্ডের কৃষক জহিরুল মল্লিকের প্রায় ৫ হাজার টি তরমুজ নষ্ট করে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি হলদিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে ঘটেছে।
এ ঘটনায় শনিবার ১১ এপ্রিল দুপুরে আমতলী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক। এর আগে, শুক্রবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ জানা গেছে, আমতলী উপজেলার সদর ইউনিয়নের মহিষডাঙ্গা গ্রামের ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা কৃষক জহিরুল মল্লিক হলদিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে আড়াই একর জমিতে তরমুজের চাষ করেছেন।
এতে তার ব্যয় হয়েছে প্রায় সারে ৩ লক্ষ টাকা। বর্তমানে ওই তরমুজ গাছে ফল ধরেছে।যা বিক্রি করার মত উপযুক্ত হয়েছিলো।পাইকারের সাথে খেতসহ ১লক্ষ ৮০ হাজার টাকা চুক্তিতে বিক্রি ও করেন তিনি।
শুক্রবার দিবাগত রাতে ওই তরমুজ ক্ষেতের ৫ হাজার টি তরমুজ নস্ট করে ফেলে দুর্বৃত্তরা।
সকালে কৃষক জহিরুল মল্লিক পাইকারদের নিয়ে ক্ষেতে গিয়ে সব তরমুজ ফাটা,কোপ দেয়া দেখতে পেয়ে ডাক চিৎকার দেন। তার ডাক চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন গিয়ে তরমুজ নস্ট করে ফেলার দৃশ্য দেখতে পায়। এতে তার প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান জহিরুল মল্লিক।
এ ঘটনায় শনিবার দুপুরে কৃষক জহিরুল মল্লিক বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের অভিযুক্ত করে আমতলী থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।
কৃষক জহিরুল মল্লিক অভিযোগ করে বলেন, আমি অনেক ধার দেনা করে এই তরমুজ চাষ করছি।আমার সর্বনাশ কারা করল।সারে ৩লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। যারা আমার ক্ষতি করছে তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর বিচার দাবী জানাই।
স্থানীয় বাসিন্দা ইব্রাহীম বলেন, শনিবার সকালে ডাকাডাকি শুনে জহিরুল মল্লিকের ক্ষেতে গিয়ে দেখি অনেক তরমুজ নস্ট করা হয়েছে। রাতের আঁধারে শত্রুতাবসত কেউ এই তরমুজ নস্ট করে ফেলেছে। এতে তো আমাদের মাঝেও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তারা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো:রাসেল বলেন, সত্যি ঘটনাটি দুঃখজন!ভুক্তভোগী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পাশে সরকারি প্রণোদনা সহ যাবতীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।