নিজস্ব প্রতিবেদক : কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার নারচর এলাকায় দীর্ঘদিনের জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে মনির হোসেন মজুমদার গং-এর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক বলে দাবি উঠেছে। অভিযুক্ত মনির হোসেন মজুমদার গং-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বৈধ মালিকানা ও দখলে থাকা জমি নিয়ে একটি চক্র মিথ্যা অভিযোগ এনে তাদেরকে আইনি জটিলতায় ফেলতে চাচ্ছে।
মনির হোসেন মজুমদার গং জানান, তাদের পিতা মৃত মোশারফ হোসেন মজুমদার ২০১১ সালে বৈধ হেবা দলিলের মাধ্যমে তার কন্যাদের নামে জমি হস্তান্তর করেন। পরবর্তীতে ওই জমির মালিকানা সূত্রে তার বোনেরা জমির কিছু অংশের মাটি বিক্রি করেন। এরপর ২০১৭-২০১৮ সালে মনির হোসেন মজুমদার গং উক্ত জমি বন্ধক নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন এবং দীর্ঘদিন ভোগদখলে রাখেন।
তাদের দাবি, প্রাকৃতিক দুর্যোগে মাছ চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর তারা জমিতে নিয়মিত ধান চাষ করে আসছেন, যা তাদের দখলের সুস্পষ্ট প্রমাণ।
মনির হোসেন মজুমদার গং আরও অভিযোগ করেন, “বাদী পক্ষের পূর্বপুরুষরা প্রকৃত মালিকানার তুলনায় অতিরিক্ত জমি বিক্রি করায় ১৯৯৩ সাল থেকেই এই জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। সেই পুরনো বিরোধকে পুঁজি করেই এখন আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা সাজানো হয়েছে।”
তারা জানান, জমির প্রকৃত মালিকানা নিয়ে ইতোমধ্যে মনির হোসেন মজুমদার বিজ্ঞ যুগ্ন জেলা জজ তৃতীয় আদালতে হাফেজ মাহাবুবুল আলম মজুমদার,মহাসিনও মমিন গংদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি বন্টন ৪৭/২৬ মামলা দায়ের চলমান রয়েছে। বিষয়টি বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও ফৌজদারি মামলা দায়ের করে চাপ সৃষ্টি ও হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
অন্যদিকে, মামলার বাদী পক্ষ অভিযোগ করেছেন, মনির হোসেন মজুমদার গং রাতের আঁধারে ভেকু ব্যবহার করে জমির মাটি কেটে দখলের চেষ্টা করেছেন। এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এ অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ দাবি করে মনির হোসেন মজুমদার গং বলেন, “আমরা আমাদের নিজস্ব ও বৈধ দখলীয় জমিতে চাষাবাদ করেছি। কারও জমি দখল বা মাটি কাটার প্রশ্নই আসে না। একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে আমাদেরকে সামাজিক ও আইনি ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উভয় পক্ষের মধ্যে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এলাকাবাসীর একাংশ মনে করছেন, পুরোনো এই বিরোধের জেরেই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন মনির হোসেন মজুমদার গং। পাশাপাশি তারা ন্যায়বিচারের আশায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।