ইনসাফ ডেস্ক : বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে এবং বেকার মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে “দেশবন্ধু” রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদ।
সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান শক্তি হচ্ছেন প্রবাসী রেমিটেন্স যোদ্ধারা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এই রেমিটেন্স যোদ্ধারা নিজেরাই ভালো নেই। দীর্ঘদিন বিদেশে পরিশ্রম করে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখলেও জীবনের শেষ সময়ে তারা শুধু ডাল-ভাত খেয়ে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা চান। তাদের দুঃখ-কষ্ট, অধিকার ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কথা শোনার মতো কার্যকর ব্যবস্থা এখনো যথেষ্ট নয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রবাসীরা শুধু নিজেদের কথা ভাবেন না; তারা দেশের ভবিষ্যৎ নিয়েও গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশ যদি শুধু অভ্যন্তরীণ সংকট নিয়ে ব্যস্ত থাকে এবং অর্থনৈতিক উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের দিকে সর্বশক্তি দিয়ে মনোযোগ না দেয়, তাহলে দেশের অবস্থা উন্নতির পরিবর্তে আরও জটিল হতে পারে।
তাই সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য নিরাপদ, স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। শিল্প-কারখানা, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন, আবাসন ও অবকাঠামো খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আনার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা, দ্রুত অনুমোদন, সহজ ব্যাংকিং ব্যবস্থা, জমি ও বিদ্যুৎ সুবিধা এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রায় দুইশত বছর আগে বাংলা ছিল সমৃদ্ধির প্রতীক। কিন্তু অদক্ষতা, অযোগ্যতা, দুর্নীতি ও অতিরিক্ত লোভ-লালসার কারণে আমাদের অর্থনৈতিক অধঃপতন ঘটেছে। এখন সময় এসেছে নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর।
“দেশবন্ধু” দার্শনিক অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা সাহেবের “আমারটা আমার, তোমারটা তোমার” নীতি অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, অন্যের অধিকার লঙ্ঘন না করে, সত্য-ন্যায় ও নৈতিকতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হলে দেশ আবার উন্নতির পথে এগিয়ে যেতে পারবে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও জোর দিয়ে বলা হয়—
আমরা বারবার উল্লেখ করেছি, রেমিটেন্স যোদ্ধারা ভালো নেই। আমরা আবারও বলছি, রেমিটেন্স যোদ্ধারা ভালো নেই। তাদের বেঁচে থাকার অধিকারটুকু ফিরিয়ে দিতে হবে। তাদের ন্যায্য ছয় দফা দাবি মেনে নিতে হবে। তাদের মনের ভাষা, তাদের কণ্ঠস্বর ফিরিয়ে দিতে হবে।
আমরা দার্শনিক দেশবন্ধু অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা সাহেবের নীতি অনুসরণ করছি। আমরা ন্যায় ও সত্যের পথে আছি। ইনশাল্লাহ, বিজয় আমাদের হবেই।
সবশেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি আবেদন জানানো হয়, প্রবাসী রেমিটেন্স যোদ্ধাদের সম্মান, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের মানুষের জন্য টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হোক।