রোমান আহমেদ, জামালপুর প্রতিনিধি : সামান্য বৃষ্টিতেই হাটুপানি। বিদ্যালয়ের মাঠ যেনো বিস্তীর্ণ জলাধার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পানি শুকিয়ে গেলেও মাঠজুড়ে থাকে স্যাঁতসেঁতে কাঁদা। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের।
এমন চিত্রই দেখা গেছে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের উত্তর কাহেতপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠের।
বিদ্যালয়ের মাঠটি নিচু হওয়ায় এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষাকাল জুড়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পানি আটকে থাকায় বন্ধ রয়েছে বিদ্যালয়ের অ্যাসেম্বলি, শরীর চর্চা, খেলাধুলাসহ নানা কার্যক্রম। এছাড়াও ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকলেও শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে মাঠে নামতে পারছে না। জলাবদ্ধতার কারণে শ্রেণিকক্ষে যাতায়াতের সময় শিক্ষার্থীরা অনেকেই পা পিছলে পড়ে যায়। এতে নোংরা হয় তাদের জামাকাপড়, বই খাতা ভিজে যায়। এই সমস্যা সমাধানে বিদ্যালয়ের মাঠ উঁচু করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মাঠ ঘিরে গড়ে উঠেছে ঘনবসতি। বিদ্যালয়ের পুরো মাঠজুড়ে হাঁটুসমান পানি জমে আছে। তবে পানি বের হওয়ার কোনো পথ নেই। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পানি মাড়িয়ে চলাচল করছেন। এছাড়া দুইটি বাড়ির লোকজনের একমাত্র চলাচলের রাস্তা ওই বিদ্যালয়ের মাঠ।
স্থানীয়রা জানায়, গত ৮ বছরের অধিক সময় ধরে বিদ্যালয় মাঠে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। মাঠটি শুধু স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদেরই নয়, গ্রামের যুবকদেরও খেলাধুলার জন্য। মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করা এবং চারপাশে বাড়িঘর নির্মাণ করায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী নাইম, আরিফুল, ফারজানা, জোনাকি বলেন, বৃষ্টি হলেই আমাদের স্কুল মাঠে হাঁটু সমান পানি জমে যায়। অনেক সময় পানিতে পড়ে গিয়ে আমাদের বই, জামা-কাপড় ভিজে যায়। আমরা মাঠে খেলাধুলা করতে পারি না।
স্থানীয় বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন বলেন, এই স্কুলের মাঠ দিয়েই আমাদের বাড়ি থেকে বের হতে হয়। বর্ষাকালে বাড়ি থেকে বের হলেই পানিতে পা দিতে হয়। অনেক কষ্ট হয় চলাচলে। এ সমস্যার সমাধান হলে কষ্ট লাঘব হবে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রোজিনা পারভীন বলেন, প্রতিবছরই বর্ষাকালে পুরো মাঠে পানি আটকে থাকে। ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা পানির কারণে স্কুলে আসতে চায় না। অনেক ছোট শিক্ষার্থীরা মাঠ পার হতেই পা পিছলে পড়ে যায়। জলাবদ্ধতার বিষয়টি শিক্ষা অফিসে জানানো হয়েছে। বিদ্যালয়ের মাঠটি ভরাট করে দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন।
মেলান্দহ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম গোলাম কিবরিয়া বলেন, আমাদের মাটি কাটার সিস্টেম নেই সরকারি অর্থায়নে। এ বিষয়ে আমাদের ঊর্ধতন কতৃপক্ষকে জানিয়ে স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।
এ বিষয়ে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস.এম আলমগীর বলেন, এবার ভারী বৃষ্টি একটু বেশি হয়েছে। সব জায়গায় জলাবদ্ধতার সমস্যা দেখা দিয়েছে। ওই বিদ্যালয়ে যদি বেশি সমস্যা থাকে তাহলে আমাদের কাছে লিখিত আবেদন দিলে আমরা যাচাই পূর্বক ব্যবস্থা নিবো।