মো আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কাঠইর ইউনিয়নের জগজীবনপুর গ্রামে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার না করায় বিচারাধীন মামলাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। এতে প্রায় ৩৬ টি পরিবারের চলাচলের রাস্তা বন্ধ সহ মামলার বাদী দুলাল মিয়াকে প্রকাশ্যে বুকে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। যা এলাকায় তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ঘটনার বিবরণ ও প্রেক্ষাপট প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত পবিত্র রমজান মাসে জগজীবনপুর ও ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন ব্যক্তি আহত হন। পরবর্তীতে ঘটনাটি কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জ সদর থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। অভিযোগের সারসংক্ষেপে ভুক্তভোগী দুলাল মিয়ার অভিযোগ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি সুনামগঞ্জ শহর হতে নিজ গৃহে প্রত্যাবর্তনের পথে জগজীবনপুর-ব্রাহ্মণগাঁও সড়কের যাত্রী ছাউনির নিকট পৌঁছালে সজীব,মাহবুব,আলমসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে তার পথরোধ করে। এ সময় অভিযুক্তরা বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনপূর্বক দুলাল মিয়ার বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, পূর্বের সংঘর্ষে আঘাতপ্রাপ্তির প্রতিশোধ নিতেই এ ধরনের হুমকি প্রদান করা হয়েছে। দুলাল মিয়ার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। এতে তাৎক্ষণিক কোনো শারীরিক ক্ষতি না হলেও ভুক্তভোগী বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিবর্গ উক্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের নাম উঠে এসেছে সজীব (পিতা: সমছু মিয়া) মাহবুব (পিতা: কাসেম মিয়া) আলম (পিতা: এলখাছ মিয়া)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্য এবং তারা এলাকায় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও প্রদর্শনের মাধ্যমে জনমনে ভীতি সঞ্চার করে আসছে। পরবর্তী পরিস্থিতি ঘটনার পর অভিযুক্তদের সমর্থনে প্রায় ৪০-৫০ জন ব্যক্তি এলাকায় অবস্থান নিয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারকে অবরুদ্ধ করার চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। জনপ্রতিনিধির প্রতিক্রিয়া কাঠইর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের সদস্য আজিম আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন“জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এভাবে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান দণ্ডনীয় অপরাধ। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। আইনি দৃষ্টিকোণ ও দাবি আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ দণ্ডবিধি অনুযায়ী ‘অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন’, ‘অস্ত্র আইনের লঙ্ঘন’ এবং ‘শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টের ষড়যন্ত্র’-এর আওতাভুক্ত গুরুতর অপরাধ। এলাকাবাসী ও সচেতন মহল অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেফতার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায়, যে কোনো সময় বৃহৎ পরিসরের সহিংস ঘটনা সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা মনে করছেন। উপসংহার বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে।
সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো রতন শেখ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে আইন গত ব্যবস্থা নেয়া হবে।