শিরোনাম :
পঞ্চগড়ে রাশেদ প্রধানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, দলীয় কার্যালয় ভাংচুর অসুস্থ বন্ধুর মন ভালো রাখতে ন্যাড়া হলেন ১০ যুবক রূপসায় ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী লিটন তালুকদারের গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কৃষকদের স্বাবলম্বী করতে কাজ করছে সরকার : কৃষিমন্ত্রী টাঙ্গাইলে এসএসসি ‘৯৬ ব্যাচের ৩০ বছর পূর্তি ও মিলনমেলা অনুষ্ঠিত রাজিবপুরে জরিমানা দাবিতে ক্ষুব্ধ জনতা, অবরুদ্ধ প্রশাসন  আমতলীতে দ্বিতীয় দিনে চলে গণঅনশন সাঁড়াশি অভিযানে জিম্মি ২ জেলে উদ্ধার, অস্ত্রসহ দয়াল বাহিনীর সদস্য আটক সুনামগঞ্জের ডিসি বদলির আদেশে জেলাজুড়ে বইছে আনন্দের বন্যা মুখস্থের অবসান, মেধার উন্মোচন: দক্ষতাভিত্তিক বিসিএসের অনিবার্যতা
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১০ পূর্বাহ্ন

আমতলীতে মাজারে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ আহত ১৮

Reporter Name / ১৪৭ Time View
Update : সোমবার, ১৭ মার্চ, ২০২৫

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি : বরগুনা আমতলী উপজেলায় তিন দিনব্যাপী ওরস আয়োজনের প্রস্তুতির মধ্যে একটি মাজারে মব তৈরি করে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলে দাবি করছেন মাজার কর্তৃপক্ষ।

রবিবার (১৬ফেব্রুয়ারি) রাত সারে ১২ টা পর্যন্ত সেখানে চলে ভাঙচুর ও লুটপাট অগ্নিসংযোগ।

রাতে তৌহিদি জনতার পক্ষে মাওলানা মুফতি মোঃ ফারুক হোসেনের সাথে মাজার কমিটির সাধারন সম্পাদক এ্যাড, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের সাথে গান বাজনা নিয়ে বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে হাতাহাতি হলে সংঘর্ষে রুপ নিলে এ ঘটনা ঘটে।

‘ইসমাইল শাহ বাবা মাজার’ নামের এ মাজারটি বরগুনা আমতলী পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডে অবস্থিত। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও তিন দিন ব্যপি মাজারে বার্ষিক ওরস হওয়ার কথা ছিল। এ জন্য মাজারের সামনে মঞ্চ ও বড় তোরণ নির্মাণ করা হয়েছিল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভক্তদের জন্য শামিয়ানা দধদিয়ে প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছিল।

এ দিকে মাজারের ওরস ঠেকাতে তৌহিদি জনতা কয়েক হাজার লোকজন লাঠি হাতে মিছিল বের করেন। মিছিলটি মাজারের সামনে পৌঁছালে আশেপাশের আরও কয়েক গ্রামের মানুষ মিছিলে অংশ নিয়ে মাজারে ভাঙচুর ও আগুন লাগিয়ে দেয়।

এ সময় মাজারের বিভিন্ন আসবাব, ঘরের টিন ও দেয়ালের ইট খুলে ফেলে হয়। সেখানে বিক্ষুব্ধ লোকজন বিভিন্ন স্লোগান দেন। তৌহিদি জনতা আগুন দিয়ে মাজারের চারপাশ ঘিরে অবস্থান নেওয়ায় সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যেতে পারেননি। ভাঙচুরকারীদের অভিযোগ, মাজারটিতে গানবাজনা, মাদক সেবন ও অশ্লীল কর্মকাণ্ড চালানো হতো।

স্থানীয় জনতা ও মুফতি ওমর ফারুক জিহাদী অভিযোগ করে বলেন,ইসমাইল শাহ ১৯৯৬ সালে মাজারটি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শুরু থেকে ওরসের নামে বিদাত ও শিরক করা হয় ওই মাজারে।এসব কাজে বাধাঁ দিলে তিনি কর্নপাত না করে তার মুরিদান আলেম ওলামাদের ওপর হামলা করলে ১০-১২ জন আহত হন।

এ ছাড়া নারী পুরুষ তারা তাদের পীরকে খোদা মনে করে, কথিত পীরের মাজারে সরাসরি সিজদা করেন। তারা মোমবাতি জ্বালিয়ে অগ্নি পূজার মতো করে পূজা করেন। মাজারের লোকজন প্রতিবছর চৈত্র মাসে ঢোল, তবলা ও হরেক রকম বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করে গান, বাজনা ও জিকির করেন। প্রতি বছরে ২ চৈত্র ওরসের নামে নারী-পুরুষ একত্রে হয়ে ভণ্ডামি ও মাদক সেবন করেন। এ ছাড়া মুসলমান হয়ে তারা কোরআন ও ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কাজ করতেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য মাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক এ্যাড, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, বিষয়টি আলোচনা করে সমাধান করা যেতো। তা না করে একদম উদ্দেশ্য প্রোনোদিত হয়ে মাজারে হামলা ভাংচুর, লুুটপাট করেন। হামলায় মাজারে একাধিন মুরিদান গুরত্বর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বরগুনা জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিউল আলম অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ জহিরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষকে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেন।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আরিফুল ইসলাম বলেন, পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড মাজারে তৌহিদি জনতা হামলার পর আগুন দিয়েছে। তৌহিদি জনতার মধ্যে চরম উত্তেজনা থাকায় ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যাওয়ার মতো পরিস্থিতি ছিল না। পরে রাত ১টার দিকে সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা

সম্পাদকীয়

সম্পাদক ও প্রকাশক