আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি : বরগুনার আমতলী পৌরসভার ১নংওয়ার্ডে সরকারি (পাউবোর) জমিদখলের মহোৎসব।চলছে কোটি টাকার বানিজ্য যে যে ভাবে পারছে সে ভাবে প্রভাবশালীরা কোটি কোটি টাকার জমি প্রতিনিয়ত ক্রয়বিক্রয় ও দখল করছেন। ।
অনেক প্রভাবশালী সরকারী এইজমি ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস আমতলীর অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগ সাজসে লাখ লাখ টাকায় বিক্রি করে দিচ্ছেন। আর যারা ক্রয় ক্রয় করছেন তারা আইনকানুনের কোন তোয়াক্কা না করে পৌর আইনকে অমান্যকরে নির্মাণ করছেন পাকা স্থাপনা কেউ কেউ দুই তলা তিন তলা ভবনও করছেন। এ সব প্রভাবশালীরা আইনের তোয়াক্কা না করে আইন অমান্য করে দখল করছে সরকারি জমি। মো.সিদ্দিক মিয়া ও রফে সিদ্দিক কবিরাজ সাড়ে ৪ শতাংশ জমি ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকায় এক প্রভাবশালীর কাছ থেকে ক্রয় করে পাকা স্থাপনা নির্মানের কাজ শুরু করেছেন। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসের বাউন্ডারী ওয়ালের উত্তর পাশে দখলকরে আতাহার হাওলাদার, হাকিম আব্দুল হাইসহ অসংখ্যা প্রভাবশালী সরকারী জমি দখল ক্রয় বিক্রয় করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রভাবশালীরা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সরকারি জমি ক্রয় বিক্রয় করে যাচ্ছেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন সরকারের কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি দখল করলেও প্রশাসনের তেমন হস্তক্ষেপ নেই। অভিযোগ পেলে নামকাওয়াস্তে নিষেধ করা হয়। দু’একদিন কাজ বন্ধ থাকে, তারপর আবার কাজ শুরু হয়। দখল হয়ে যায় সরকারি জমি।এভাবে আমতলী পৌরসভার ১ নং ৩ ওয়ার্ডে প্রতিনিয়ত সরকারি জমি দখল হয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয় সরকারী জমি ক্রয় ও দখলকারী মো. সিদ্দিকুর রহমান ওরফে সিদ্দিক কবিরাজের কাছে জানতে চাইলে তিনি মুঠোাফোনে বলেন, আমি ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকায় রাজু চৌধুরীর কাছ থেকে সাড়ে ১০ শতাংশ জমি কিনে পৌরসভার প্লান করার জন্য পৌরসভার সার্ভেয়ার জহিরুল ইসলামের কাছে ৫ হাজার টাকা দিয়েছি।
জমি বিক্রিদাতা রাজু চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সাবেক এমপি আব্দুল মজিদ মল্লিকের কাছ থেকে ১০ লাখ ৩০ হাজার টাকায় ক্রয় করেছিলাম। আমি আবার সিদ্দিক কবিরাজের কাছে ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছি।
পৌরসভার সার্ভেয়ার মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, আমাকে প্লানের জন্য নয় ব্যক্তিগত ভাবে বরিশাল থেকে ডিজাইন করিয়ে আনার জন্য মাধ্যম হিসাবে ৫হাজার টাকা দিয়েছে। প্রকৃত পক্ষে সরকারী জমিতে পাকা স্থাপনা করা জন্য পৌরসভা কোন প্লান বা অনুমতি দিতে পারেনা ।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) আমতলীর উপসহকারী প্রকৌশলী আজিজুর রহমান সুজন মুঠোফোনে বলেন পাউবো অফিস সিদ্দিকের অবৈধ স্থাপনা নির্মান করছে জানার পর তাকে অবৈধ স্থাপনা নির্মান বন্ধ ও মালামাল সরিয়ে নেওয়ার জন্য নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। নোটিশ অনুযায়ী কাজ না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌরসভার প্রশাসক মোহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, পৌরসভার প্লান ব্যাতিত পৌরসভার মধ্যে কোন স্থাপনা নির্মান করা যাবেনা। এছাড়া সরকারী জমিতে কোন ধরনের স্থাপনা করার জন্য পৌরসভা কোন প্লান বা অনুমতি দিতে পারেনা। যে কোন উপায় সরকারী জমি উদ্ধার করা হবে।
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হান্নান প্রধান বলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কেহ জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষ ব্যবস্থা নেয়া হবে।