সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৬ পূর্বাহ্ন

এক যুগেও পদোন্নতি নেই বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে, মাউশিতে অবস্থান কর্মসূচি 

Reporter Name / ১৮৫ Time View
Update : রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘ এক যুগ ধরে পদোন্নতি বঞ্চিত বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের ৩২ ও ৩৩ ব্যাচের প্রায় চার শতাধিক প্রভাষক রবিবার ১৪ সেপ্টেম্বর পদোন্নতির দাবিতে মাউশি’তে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এরপর তারা মাউশির ডিজি’সহ বিসিএস সাধারণ শিক্ষা এসোসিয়েশনে’র নেতৃবৃন্দকে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

দেখা যায়, আজ বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে সারাদেশ থেকে আগত শিক্ষা ক্যাডারের পদোন্নতি বঞ্চিত প্রভাষকরা মুখে এবং বুকে কালো ব্যাজ ধারণ করে শিক্ষা ভবননের সম্মুখে অবস্থান নেন। এদের মধ্যে ৩৩ তম বিসিএস কর্মকর্তা এবং প্রভাষক শামীম আহমেদ, বিপাশা আহমেদ, নওরীন সুলতানা এবং ৩২ তম বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তা এবং প্রভাষক লাবনী, হোসনে আরা ফেরদৌস, ফখরুল ইসলামসহ অন্যান্য পদোন্নতি বঞ্চিত শিক্ষা কর্মকর্তাদের দেখা গেছে।

অবস্থান শেষে মাউশির ডিজি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আজাদ খান এবং বিসিএস জেনারেল এডুকেশন এসোসিয়েশনের আহবায়ক প্রফেসর ড. মাঈন উদ্দিন খান সোহেল’কে স্মারকলিপি প্রদান করেন। এসময় তারা অতি শীঘ্রই প্রভাষকদের বন্ধ পদোন্নতির ডিপিসি চালুর আশ্বাস দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আন্তঃক্যাডার এবং অন্তঃক্যাডার বৈষম্যের এক চরম নজির বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার। এ ক্যাডারে ৩৩ তম বিসিএসের সদস্যরা চাকুরীতে যোগদান করেন ২০১৪ সালের ৭ আগষ্ট। চাকুরীর ১২ বছরে এসেও ৩৩ তম ব্যাচের প্রায় ৩৫০ জন প্রভাষকের এখনো জোটেনি চাকুরী জীবনের প্রথম পদোন্নতি।

কেবল বিসিএস ৩৩ ব্যাচ নয়, ৩২ ব্যাচেরও প্রায় অর্ধশত কর্মকর্তা বিষয়ভিত্তিক বৈষম্যের কারণে আজও পদোন্নতি বঞ্চিত। তাছাড়া ৩৫ তম ব্যাচ পর্যন্ত সকল যোগ্যতা অর্জন করে প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পর্যায়ে রয়েছেন পদোন্নতিযোগ্য প্রায় ১২২৭ জন কর্মকর্তা। দীর্ঘদিন পদোন্নতি বঞ্চনা একদিকে যেমন সামাজিক, মানসিক ও আর্থিক ক্ষতির কারণ, অন্যদিকে তা গুণগত শিক্ষারও অন্তরায়। ধারণা করা হয়েছিল, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বিসিএস সাধারণ শিক্ষায় যুগান্তকারী ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, পদোন্নতির মতো সাধারণ ও স্বাভাবিক বিষয় আজও সোনার হরিণ!

আন্দোলনকারীরা জানান, দীর্ঘ ১৭ মাস ধরে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পর্যায়ের পদোন্নতি বন্ধ রয়েছে। গত ০৪ জুন ২০২৫ সালে প্রভাষকদের পদোন্নতির ডিপিসি বসে ছিল। কর্তৃপক্ষ থেকে বলা হয়, আত্তীকৃত শিক্ষকদের মামলার কারণে পদোন্নতি প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। অথচ আদালতের পর্যবেক্ষণে কোথাও বলা হয়নি পদোন্নতি প্রক্রিয়া বন্ধ রাখতে। মাউশি ও বিসিএস সাধারণ শিক্ষা এসোসিয়েশনের নানা সূত্র থেকে জানা যায়, প্রভাষক পর্যায়ে পদোন্নতিতে কোর্টের মামলা মূখ্য বাধা নয়। প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে পদোন্নতির সংখ্যা নিয়ে মতভেদ। শিক্ষা মন্ত্রণালয় শূণ্য পদের বাইরে পদোন্নতি দিতে নারাজ। মন্ত্রণালয়ের হিসাবে পদোন্নতি দিলে পাঁচ শতাধিক কর্মকর্তার পদোন্নতি হতে পারে। এ সংখ্যা বিসিএস সাধারণ শিক্ষা এসোসিয়েশন মানতে রাজি নয়। অতীতে দেখা গেছে, মন্ত্রণালয়ের সিন্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা এসোসিয়েশন বা মাউশি দরকষাকষি করে খুব একটা লাভবান হতে পারেনি। বরং সময় নষ্ট করেছে। তাই সংখ্যা বিবেচনায় না নিয়ে প্রতিবছর নিয়মিত পদোন্নতি প্রদানই হতে পারে দীর্ঘ পদোন্নতি বঞ্চনা লাঘবে উত্তম পন্থা। এদিকে পদোন্নতির দাবীতে ৩৩ ব্যাচের সদস্যরা প্রায় ৪০ দিনযাবৎ শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাউশি ও এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দের সাথে সাক্ষাৎ করে চলেছেন তাঁদের পদোন্নতির বিষয়ে অগ্রগতি জানতে। কিন্তু উচ্চ পর্যায় থেকে কোন সুখবর না পাওয়ায় তাঁদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা কাজ করছে। এর মধ্যেই আজ তাঁরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করলো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা

সম্পাদকীয়

সম্পাদক ও প্রকাশক