মোহাম্মদ শাহাদাত আলম অন্তর : জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে কুমিল্লার কোনো নারীনেত্রীর ঠাঁই হলো না। যদিও মনোনয়ন পেতে ২৯ প্রার্থী মনোনয়ন ফরম জমা দিয়ে সাক্ষাৎকার বোর্ডে হাজির হয়েছিলেন। সোমবার চূড়ান্ত মনোনয়ন তালিকা গণমাধ্যমে আসার পর এ নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন মনোনয়নপ্রত্যাশীদের অনেকেই। ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে পোস্ট দিয়েছেন তাদের অনুসারীরাও।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কেউ কেউ কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসন এলাকার কাউকে সংরক্ষিত নারী আসনে না রাখার বিষয়ে দলীয় কোন্দল এবং নির্বাচিত দলীয় এমপিদের সমন্বয়হীনতা ও আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এর আগে একাদশ জাতীয় সংসদে কুমিল্লা থেকে নারী আসনের এমপি হন মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ধীরেন্দ্র নাথ দত্তের নাতনি আরমা দত্ত এবং আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা প্রয়াত অ্যাডভোকেট আফজল খানের কন্যা আঞ্জুম সুলতানা সীমা। পরে দ্বাদশ সংসদে আরমা দত্ত আবারও নারী এমপি হন।
বিএনপিদলীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার ১১টি আসনের মধ্যে ৮টিতে বিএনপির প্রার্থী বিজয় লাভ করেন। অপর তিনটির মধ্যে একটি করে জামায়াত, এনসিপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হন। নির্বাচিতদের মধ্যে জাকারিয়া তাহের সুমন ও কাজী মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ এবং টেকনোক্র্যাট কোটায় হাজি আমিন উর রশিদ ইয়াছিন মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন। এক মাস ধরে কুমিল্লায় নারী আসনে এমপি কারা হচ্ছে– এ নিয়ে বেশ গুঞ্জন চলছিল দলীয় অঙ্গনে। তালিকায় বর্তমান, সাবেক ও প্রয়াত এমপি-মন্ত্রীদের পুত্রবধূ, মেয়ে, স্ত্রীসহ দলের অনেক সিনিয়র নেত্রী ছিলেন। দলের মনোনয়ন পেতে কুমিল্লা থেকে বিএনপির এবং এর অঙ্গ সংগঠনের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নেত্রীরা ৩০টি মনোনয়ন ফরম কেনেন। এর মধ্যে ২৯ জন সাক্ষাৎকার বোর্ডে হাজির হন। তারা মনোনয়নপত্র ক্রয় করে দলীয় ফোরামে দৌড়ঝাঁপ করেন।
মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন জাতীয়তাবাদী কেন্দ্রীয় মহিলা দল ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটি সদস্য অ্যাডভোকেট সাবেরা আলাউদ্দিন হেনা। তিনি কুমিল্লার দক্ষিণ জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তাঁর প্রয়াত স্বামী আলাউদ্দিন আহমেদ কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। হেনা রাতে এ প্রতিনিধি কে বলেন, আমি মনোনয়ন লাভ করি– এটা আমাদের দলের অনেকেই চাননি। দলে কোন্দলের কারণে নেতাদের কেউ কেউ নিজের পছন্দের প্রার্থী নিয়ে তদবির করেও ফল পাননি। এই নারীনেত্রীর ভাষ্য, ‘আমি হতাশ হইনি, দলের প্রধান হয়তো সামনে আরও ভালো কিছু দেবেন। সেই প্রত্যাশা নিয়ে কাজ করে যাব।’
কুমিল্লা উত্তর জেলা মহিলা দলের দুইবারের সভানেত্রী, কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সদস্য ও দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সুফিয়া বেগম বলেন, ‘কুমিল্লা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কুমিল্লা-২ (হোমনা ও তিতাস) আসনের এমপি সেলিম ভূঁইয়ার ডিও লেটারসহ মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছিলাম। সাংগঠনিক দক্ষতা ও আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে ছিলাম। আশা ছিল মনোনয়ন পাব। কেন পাইনি তা বোধগম্য নয়।’
২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর র্যাবের হাতে ‘গুম হওয়া’ লাকসাম পৌরসভার তৎকালীন বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির পারভেজের সহধর্মিণী শাহনাজ আক্তার নারী আসনে প্রার্থী ছিলেন। তিনি মনোনয়ন না পাওয়ায় হতাশ তাঁর অনুসারীরা। এ ছাড়া প্রার্থী ছিলেন কুমিল্লা-৯ (লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ) আসনের প্রয়াত এমপি আনোয়ারুল আজিমের মেয়ে সামিরা আজিম দোলা। তিনি বলেন ‘মনোনয়ন পাব এমন আশা ছিল। তবে সে বলেন না পাওয়ায় আমি হতাশ নই। দলের চেয়ারম্যান বলেছেন, ৩৬ জন মনোনয়ন পাচ্ছেন, প্রত্যাশী তো অনেক। তাই যারা মনোনয়ন পাবেন না, তাদের সবাইকে যোগ্যতা অনুসারে দলে পদ দেওয়া হবে। তাই বাবার নীতি-আদর্শের পথে থেকে দলের জন্য কাজ করে যাব।’
কুমিল্লায় নারী আসনে শূন্যতার বিষয়ে দলের নির্বাচিত এমপি বা নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।