শিরোনাম :
তেঁতুলিয়ায় বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে লুকোচুরি খেলাই নাগরিকদের জীবনকে অতিষ্ঠ  কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল জব্দ, আটক ১ সাভার পৌর বিএনপি সভাপতির ইন্তেকাল কুমিল্লা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার ১ম দিনে অনুপস্থিত ১৪২৫ জন পরীক্ষার্থী কুমিল্লায় নিয়ম ভেঙে পরীক্ষাকেন্দ্রে এমপি ভারতে বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে চতুদের্শীয় বাংলাবান্ধা স্থল বন্দরে তিন দিন আমদানি-রপ্তানির বন্ধ মধ্যনগর বিশ্বেশ্বরী পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা শুরু এবার কুমিল্লার নারীনেত্রীরা হতাশ কুমিল্লা বোর্ডে এবার ১ লাখ ৪৬ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থীর অংশ গ্রহণ লাকসামে স্কুল ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১১ পূর্বাহ্ন

নথি বিকৃতির অভিযোগে মাভাবিপ্রবির প্রক্টরের বিরুদ্ধে আলটিমেটাম

Reporter Name / ৫১ Time View
Update : শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬

টাংগাইল প্রতিনিধি : মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি)-এ নথি বিকৃতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাকে অপসারণে আলটিমেটাম ঘোষণা করেছেন।

‎শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আওয়ামীপন্থী হিসেবে পরিচিত কিছু শিক্ষককে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে ‘সেইফ এক্সিট’ নিশ্চিত করেছে। আন্দোলনের বিরোধিতাকারী কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযুক্তদের দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যার সঙ্গে প্রক্টরের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।

‎এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে গত ২৪ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীদের চাপে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তৎকালীন রেজিস্ট্রারকে সাময়িক অব্যাহতি দেয় এবং আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ ওয়াহিদকে অস্থায়ীভাবে রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব প্রদান করে। তবে অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা প্রক্টরের ভূমিকা শিক্ষার্থীদের সামনে স্পষ্টভাবে আসে গত ৮ মার্চ। সেদিনই তার পদত্যাগের দাবি তোলেন শিক্ষার্থীরা। কিন্তু জ্বালানি সংকটজনিত কারণে সরকারি নির্দেশে ৯ মার্চ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেলে আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত হয়ে যায়। ঈদের ছুটি শেষে বিশ্ববিদ্যালয় পুনরায় খোলার পর শিক্ষার্থীরা আবারও প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন জোরদার করেন।

‎অভিযোগপত্র প্রক্রিয়াকরণ নিয়েও উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রক্টর একই অভিযোগপত্রের দুটি কপি রেজিস্ট্রারের কাছে প্রেরণ করেন—একটি অবিকৃত এবং অন্যটি বিকৃত। বিকৃত কপিতে অভিযুক্ত শিক্ষকের তথ্য আড়াল করা হয়। স্ট্যাপলার দিয়ে অংশবিশেষ ঢেকে ফটোকপি করার মাধ্যমে বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। এর ফলে রিজেন্ট বোর্ডের বৈঠকে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো আলোচনা হয়নি; কেবল হলের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি আলোচিত হয়েছে।

‎শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, পূর্বে একাধিকবার অভিযোগ দাখিলের চেষ্টা করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা গ্রহণে গড়িমসি করা হয়েছে।

‎নথি বিকৃতির প্রমাণ উপস্থাপনের পর প্রক্টর তার সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করলেও দাবি করেন, একটি কপি ‘ফর্মালি’ এবং অন্যটি ‘ইনফর্মালি’ ফরওয়ার্ড করা হয়েছিল। তবে শিক্ষার্থীরা এ ব্যাখ্যাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে জানতে চান—ফর্মাল নথি উপস্থাপন না হলেও ইনফর্মাল কপিটি কীভাবে রিজেন্ট বোর্ডে গৃহীত হলো।

‎এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা আগামী ৪ এপ্রিল শনিবারের মধ্যে প্রক্টরকে অপসারণ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আলটিমেটাম দিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি আদায় না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণারও হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।

‎এদিকে অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট নথি সংগ্রহে সহায়তার অভিযোগে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি জামিলকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হুমকি দেয়া হয়। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা

সম্পাদকীয়

সম্পাদক ও প্রকাশক