সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন

প্রশাসন কর্তৃক যাদুকাটা বালু মহাল ইজারাদারকে দখল দিতে দুষ্কৃতিকারীদের বাঁধা

Reporter Name / ১১৬ Time View
Update : শুক্রবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৫

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : উচ্চ আদালতের নির্দেশে প্রশাসন কর্তৃক সুনামগঞ্জের সীমান্ত নদী যাদুকাটা-১ বালু মহাল ইজারাদারকে দখল সমজিয়ে দিতে সাবেক ফ্যাসিবাদ ইজারাদারের দুষ্কৃতিকারীদের বাঁধা প্রদানের অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ১ সেপ্টেম্বর বুধবার যাদুকাটা-১ এর সীমানা বুঝিয়ে দেবার জন্য সহকারী কমিশনার ভূমি মো. সাহারুখ আলম শান্তুনু

সরেজমিন এলাকায় আসেন। তিনি সীমানা বুঝিয়ে দেবার সময় সাবেক ইজারাদার ফ্যাসিবাদ রতন মিয়া তার সহযোগী দুষ্কৃতিকারী খোরশেদ আলমের লোকজনের সঙ্গে কথা কাটাকাটির এক পযার্য়ে বাধাঁ প্রদান করে। পরবর্তীতে তারা বুঝিয়ে দেয়া সীমানা সঠিক নয় দাবী করেন এবং এভাবে বুঝিয়ে দিতে আপত্তি তুলে বলেন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বালু নিতেও তারা বাঁধা দেবেন।

ইজারাদার পক্ষের সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বালু উত্তোলনের অভিযোগ এনে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সাবেক ইজারাদারের কিছু সংখ্যক দুষ্কৃতিকারী।

বৃহস্পতিবার ২ সেপ্টেম্বর সকালে নদীর মধ্যস্থান থেকে

বালু উত্তোলনের সময় বাঁধা দেন সাবেক ইজারাদার ও খোরশেদ আলমের লোকজন। পরে বাঁধার মুখে নদীর পাড় ছেড়ে যেতে বাধ্য হয় বালু উত্তোলনকারী নৌকাগুলো।

স্থানীয় একজন ব্যবসায়ি জানান, যাদুকাটা-১ ও ২ বালুমহাল ইজারা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন যাদুকাটা-১ এর এলাকা ইজারাদারকে বুঝিয়ে দেওয়ার সময় সাবেক ইজারাদার রতন মিয়া ও দুষ্কৃতিকারী খোরশেদ আলমের লোকজন বাঁধা প্রদান করে সরকারকে রাজস্ব বঞ্চিত করার পায়তারায় লিপ্ত রয়েছে। ঐ দুষ্কৃতিকারীরা উচ্চ আদালতে রিট করে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাস যাদুকাটা নদী বন্ধ থাকায় তিনটি উপজেলার প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক নৌ-শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি খুবই কষ্টে জীবন যাপন করেছেন। অনেক

জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে উচ্চ আদালতের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে চক্রটি বাঁধা প্রদান করছে।

যাদুকাটা তীরবর্তী শিমুল বাগানের সত্ত্বাধিকারী সাবেক তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন,উচ্চ আদালতের নির্দেশে ইজারাকৃত যাদুকাটা বালু মহালে গরিব শ্রমিকরা যদি বালু না তোলে তাদের সংসার চলবে কিভাবে? সরকারকে রাজস্ব দিয়ে ইজারা এনে নদীর মাঝখান থেকে বালু তোলার সময় সাবেক ইজারাদার ও খোরশেদ আলমের কিছু সংখ্যক দুষ্কৃতিকারী মানুষ বাঁধা দিয়েছে। প্রশাসন যে জায়গা চিহ্নিত করে দিয়েছে, সেখান থেকেই বালু তোলা হচ্ছে। কেউই পাড় কাটেনি। বিক্ষোভকারীরা দাবী করছেন লাউড়েরগড় শাহিদাবাদ এলাকায় পাড় কাটা হচ্ছে। কিন্তু আমার জানা মতে শাহিদাবাদ এলাকায় পাড় বলতে কোন স্থান নেই পরোটাই চর।

শ্রমিক সংঘটনের সাধারণ সম্পাদক হাকিকুল ইসলাম সর্দার বলেন,স্থানীয় প্রশাসন যাদুকাটা-১ এর সীমানা নির্ধারণ করতে এসে বাঁধার সম্মুখীন হন। কিছু সংখ্যক দুষ্কৃতিকারী লোকদের কারণে শ্রমিকরা নদীতে বালু উত্তোলনের কাজ করতে পারছে না। এতে ব্যবসায়ি এবং ইজারাদার ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।

যাদুকাটা ২ এর ইজারাদার নাছির উদ্দীন বলেন,গত বুধবার ১ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থানীয় প্রশাসন যাদুকাটা ১ এর সীমানা নির্ধারণ করতে গিয়ে সাবেক ইজারাদার ফ্যাসিস্ট রতন মিয়া,সেলিম আহমেদ সহ দুষ্কৃতিকারী খোরশেদ আলমের লোকজন বাঁধা সৃষ্টি করায় পূর্ণাঙ্গ ভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। আপনারা জানেন দুষ্কৃতিকারীরা অহেতুক উচ্চ আদালতে রিট করায় দীর্ঘ ৫ মাস নদী বন্ধ থাকার পর আদালত সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইজারাদারের পক্ষে রায় দেন। কিন্তু দুষ্কৃতিকারীরা উচ্চ আদালতের রায় অমান্য করে সীমানা নির্ধারণে বাঁধা প্রদান করে। এদিকে দুষ্কৃতিকারীরা জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানা ভাবে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। যে কারণে তিনটি উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক শ্রমিক ও ব্যবসায়ি খুবই কষ্টে জীবন যাপন করতে হয়েছে। আমরা ইজারাদাররাও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি সরকারকে রাজস্ব দিয়ে। আমি দুষ্কৃতিকারীদের উদ্দেশ্য বলতে চাই আপনারা গরিব-মেহনতি নৌ শ্রমিকদের পেটে লাথি মাইরেন না। তাদের প্রতি একটু সহনশীন হন। মহান আল্লাহ পাক আপনাদের মঙ্গল করবেন।

তাহিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাহারুখ আলম শান্তুনু বলেন, বুধবার ওখানে সীমানা নির্ধারণের জন্য গেলে কিছু লোক আপত্তি এবং বাঁধা সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে ওখানে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কায় আমরা চলে আসি।

তাহিরপুর উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক বললেন,বাঁধার কারণে আমরা সম্পূর্ণ ভাবে যাদুকাটা-১ এর সীমানা নির্ধারণ করতে পারিনি।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড.মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বললেন,স্থানীয় লোকজনদের বাঁধার মুখে আমরা যাদুকাটা ১ বালু মহালের সীমানা সম্পূর্ণ রুপে ইজারাদারকে সমজিয়ে দিতে পারিনি। তবে সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা

সম্পাদকীয়

সম্পাদক ও প্রকাশক