শিরোনাম :
আফতাব নগরেই সাব-রেজিস্টার মাইকেলের ২৯ ফ্ল্যাট পঞ্চগড়ে পিপি-জিপি নিয়োগের প্রজ্ঞাপন স্থগিতের দাবিতে আইনজীবীদের সংবাদ সম্মেলন শান্তিগঞ্জে প্রতিবন্ধির জমির ধান কাটা ও হামলার ঘটনায় মানববন্ধন কুমিল্লায় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কর্মপরিকল্পনা বিষয়ক অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালা তেঁতুলিয়ায় দলিল লেখক সমিতির দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে সামসুল সভাপতি ও রাব্বানি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত  দিরাই-শাল্লায় তীব্র লোডশেডিং : অন্ধকারে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমাণ পণ্যসহ পাচারকারী গ্রেফতার বিশ্বম্ভরপুরে যুবকের গলা কাটা লাশ উদ্ধার তনু হত্যা মামলায় সেনাবাবিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই আমার দেশ বুড়িচং প্রতিনিধির উপর সন্ত্রসী হামলা
শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ন

মাহমুদুর রহমানকে ঘিরে বিস্ফোরক মন্তব্য মহিউদ্দিন মোহাম্মদের

Reporter Name / ১৩০ Time View
Update : শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬

ইনসাফ ডেস্ক : ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মাহমুদুর রহমানকে ঘিরে বিস্ফোরক মন্তব্য মহিউদ্দিন মোহাম্মদের। জুলাই আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকা ও নেপথ্য সমন্বয়ের বিস্তারিত তুলে ধরলেন চলচ্চিত্র পরিচালক। মহিউদ্দিন আহমেদ (যিনি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন নামেই অধিক পরিচিত) হলেন একজন বাংলাদেশী চলচ্চিত্র পরিচালক, কাহিনীকার এবং প্রযোজক। তিনি ১৯৮২ সালে বড় ভালো লোক ছিল চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ পরিচালক বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং ১৯৯১ সালের চলচ্চিত্র পদ্মা মেঘনা যমুনা চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জুলাই আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকা ও নেপথ্য সমন্বয়ের বিস্তারিত তথ্য দেন। পাঠকদের জন্য তা নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো :

“গ্রামে প্রবাদ আছে, কালা কুত্তার ঈমান চৌদ্দ আনা সাদা কুত্তার ঈমান শূন্য আনা, এবং সাদা কুত্তাকে সাবধানে ভাত দিও। মাহমুদুর রহমান সেই সাদা কুত্তা, যে ভাত খাওয়ার পর ভাতদাতাকে কামড়িয়ে দাঁত পরিষ্কার করে। আমি কিছু তথ্য জানি, তারেক রহমানের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ একজনের সূত্রে। তিনি আমার ব্যক্তিগত বন্ধু, এবং সম্পর্কটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক। আমি পেশাদার এক্টিভিস্ট নই বলে এসব জিনিস নিয়ে কখনো লিখি নি। কিন্তু সাদা কুত্তার কামড় থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করা দায়িত্ব বলে মনে করি।

 

(১) আন্দোলনে বিএনপি পুরোদমে সক্রিয় হয় জুলাই ১৩ তারিখের পরে। ১৪ তারিখ তারেক রহমান ছাত্রদল ও যুবদলের শীর্ষ নেতৃত্বকে একসাথে নিয়ে মিটিং করেন, এবং ঢাকা শহরকে ১০টি জোনে ভাগ করেন।

৪টি জোন ঢাকার কেন্দ্রে। শাহবাগ, কাকরাইল, কাওরানবাজার, ধনমণ্ডি। বাকি ৬টি জোন ঢাকার প্রবেশপথগুলো ঘিরে।

প্রত্যেক জোনে ছাত্রদলের ১০ জন ও যুবদলের ১০ জনকে দায়িত্ব দেন নেতৃত্ব দিতে। প্রতি জোনে সমন্বয়ের দায়িত্ব পান একজন।

এদের প্রধান কাজ ছিলো ঢাকার আশেপাশের জেলাগুলো থেকে ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মীদের ঢাকায় নিয়ে আসা, এবং ছাত্রদের রক্ষায় ঢাল হিশেবে পাশে থাকা।

(২) একই দিনে তারেক রহমান মির্জা আব্বাস পরিবারকে নির্দেশ দেন ঢাকায় আসা সকল নেতাকর্মী ও ছাত্রের খাওয়া দাওয়া ও পানির ব্যবস্থা করতে। ১৫ থেকে ১৮ তারিখ মির্জা আব্বাস পরিবার ৮ ট্রাক পানি ও দুই ট্রাক প্যাকেটজাত খাবার বিতরণ করেন, পরবর্তীতে আরও অনেক ট্রাক, বিভিন্ন কৌশলে। ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মীদের দিয়ে।

এনসিপি ও শিবিরের এখন যারা গর্ত থেকে বের হয়ে গলা উঁচু করছে, তারা কি জানে যে ছাত্ররা মির্জা আব্বাসের খাবার খেয়ে রাস্তায় ছিলো?

(৩) ১৫ তারিখ দলের হাইকমান্ডের সদস্যদের সাথে তারেক রহমান একাধিক মিটিং করেন। সেখান থেকে জেলা কমিটিগুলোকে সক্রিয় করার ও প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিএনপিপন্থী পরিবহন ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করা হয়, জেলা পর্যায়ের সকল নেতাকর্মীর ঢাকায় আসা ও জেলা / থানা শহরে যাতায়াতের ক্ষেত্রে যেন সর্বোচ্চ সহায়তা করা হয়। ১৬ তারিখ থেকে জেলা ও থানা বিএনপি, এবং স্থানীয় ছাত্রদল / যুবদল আন্দোলনে সংঘবদ্ধভাবে অংশ নেয়া শুরু করে।

(৪) সেই সময়ে জেলা শহরগুলোতে যারা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) হিশেবে কর্মরত ছিলেন, তাদের বড় অংশই ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবের ব্যাচমেট / বন্ধু ছিলো। বিসিএস ৩৩/৩৪ এই ব্যাচগুলো। রাকিব তার আরেক বন্ধুকে সাথে নিয়ে ওই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেলদের অনুরোধ করে, যেন ছাত্রদের উপর কোনো গু/লি চালানো না হয়। তারা যেন অন্তত বেআইনী কোনো নির্দেশ পালন না করেন। কারণ জেলা শহরে মাঠ পর্যায়ে পুলিশ কাজ করে মূলত এসপি সদর সার্কেলের কমান্ডে।

লক্ষ করবেন, জেলা শহরগুলোতে পুলিশ তেমন সহিংস হয় নি। এর কারণ হলো এই।

এখানে আমি আরেকটি তথ্য দিতে চাই। হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে গু/লির নির্দেশ দিয়েছিলো বানিয়াচং থানার তৎকালীন ওসি দেলোয়ার। এই দেলোয়ার ছিলো শিবিরের লোক। কিন্তু আওয়ামী লীগ সেজে ওসি পদ নিয়েছিলো। তাই আওয়ামী লীগের আস্থাভাজন থাকতে অতিরিক্ত আওয়ামী লীগগিরি করতে সে ৫ আগস্ট সকাল বেলা টহলে গিয়ে গুলির নির্দেশ দিয়েছিলো, যদিও জেলা পুলিশ সুপার আখতার হোসেনের সুস্পষ্ট নির্দেশনা ছিলো কোনোপ্রকার গু/লি না করতে। ওসি দেলোয়ার পরবর্তীতে গ্রেপ্তার হয়, এবং জামাতের কিছু আইনজীবী তার জামিনের চেষ্টা করে আসছে। এই দেলোয়ারের কারণে তৎকালীন আলফা থ্রি আমিনুল প্রায় মারা যেতে বসেছিলো। কিন্তু এখন সব দোষ হিন্দু এসআই সন্তোষের!

(৫) জুলাই ২০ তারিখের পর থেকে সারা দেশে আন্দোলনের নিয়ন্ত্রণ সামষ্ঠিকভাবে বিএনপি’র হাতে চলে যায়। এই সময়টাতে তারেক রহমান দলীয় কর্মী ছাড়াও বহু ফেসবুক এক্টিভিস্ট ও ইউটিউবারের সাথে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেন। আমার কাছেও আমন্ত্রণ এসেছিলো, তবে আমি যেহেতু সর্বদা রাজনীতিক ক্ষমতাধর মানুষদের সাথে ঘনিষ্ঠ হওয়া থেকে দূরে থাকি, তাই বিনয়ের সাথে না করি (কারণ কখন কার সমালোচনা করতে হয় ঠিক নেই)। তবে জানিয়ে দিই যে, ছাত্রদের রক্ষায় আমি ব্যক্তিগত ক্যাপাসিটিতে কাজ করবো। জুলাইয়ের ২২ তারিখে আমি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে একটি চিঠি লিখি। ছাত্রদের বাঁচাতে। চিঠিটির কপি ও ইউএসপিএস রিসিপ্ট তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ আমার সেই বন্ধুর কাছে আছে। এ ধরণের চিঠি আমি দেশ ও মানুষের পক্ষে সর্বদাই লিখি, ভবিষ্যতেও লিখবো। এমনকি তা তারেক রহমান বা বিএনপির বিরুদ্ধে গেলেও।

(৬) জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে তারেক রহমান বিএনপিপন্থী চিকিৎসক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সাথে একাধিক মিটিং করেন। চিকিৎসকদের নির্দেশ দেন, যেকোনো মূল্যে আন্দোলনে আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে। ঢাকা ও জেলা পর্যায়ের অনেকগুলো বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল, ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার তখন এ কাজে সংযুক্ত হয়েছিলো। বিএনপিপন্থী বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ শিক্ষকরা আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব নিয়েছিলেন।

(৭) ৩ আগস্ট রাতে তারেক রহমান জেলা পর্যায়ের নেতাদের সাথে একাধিক মিটিং করেন। নির্দেশ দেন, যেকোনো মূল্যে সর্বোচ্চ মানুষ নিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করতে হবে। ৪ আগস্ট ভোর থেকেই নারায়ণগঞ্জ, চিটাগাং রোড, গাজীপুর, সাভার, দোহার, বিক্রমপুর, এসব এলাকায় লাখ লাখ বিএনপি ও ছাত্রদলকর্মী জড়ো হতে থাকে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সাথে সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকে ছাত্রদল ও বিএনপি’র আলাদা একটি দল। ঢাকায় তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেন মির্জা আব্বাস পরিবার। ঢাকার শাহজাহানপুর, উত্তরা, যাত্রাবাড়ি, আব্দুল্লাহপুর, ও দোহারের হাজার হাজার বাসাবাড়িতে তখন বিএনপির কর্মীরা রাত কাটিয়েছে।

(৮) ছাত্র সমন্বয়কদের সাথে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন ছাত্রদল সভাপতি রাকিব, সাধারণ সম্পাদক নাসির, ও আমান উল্লাহ আমান। এই পুরো প্রক্রিয়ায় শিবির বা জামাতের কাউকে সামনে খুঁজে পাওয়া যায়নি। বরং কিছু উপলক্ষে ছাত্রদলের যোগাযোগের প্রেক্ষিতে শিবিরের সে-সময়ের নেতারা গা-বাঁচানো জবাব দিয়েছিলো, এবং অনেকেই ছাত্রলীগ সেজে ছাত্রদের পেটাচ্ছিলো।

আপাতত এই তথ্যগুলোই পাবলিকলি প্রকাশ করলাম। আরও অনেক বিষয় জানি, সময় হলে বলবো।”

—মহিউদ্দিন মোহাম্মদ

প্রতিক্রিয়া / ১০ জানুয়ারি ২০২৫


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা

সম্পাদকীয়

সম্পাদক ও প্রকাশক