ইনসাফ ডেস্ক : রাজনীতি আমার কাছে কখনোই ক্ষমতার প্রতিযোগিতা নয়—এটা দায়িত্ব, নৈতিকতা এবং জনগণের প্রতি জবাবদিহিতার বিষয়। বাংলাদেশ জনতা পার্টির চেয়ারম্যান এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নির্বাচনকে ঘিরে সার্বিক পরিবেশ গভীরভাবে বিবেচনা করে আমি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, এই মুহূর্তে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনো নিশ্চিত হয়নি।
জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (NDF) থেকে মনোনয়ন প্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও আমি বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করেছি।
নির্বাচন কমিশন যেভাবে ভোট গ্রহন পদ্ধতি বিন্যাস করেছে তাতে কমপক্ষে ৬০% ভোটার বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা নিশ্চিত। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনে আমি কোন অংশীদার হতে চাই না। কারণ দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তা সংক্রান্ত বাস্তবতা এবং নৈতিক দায়বদ্ধতা—সবকিছু মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়াটাই আমার কাছে দায়িত্বশীল বলে মনে হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে আমার পরিবার, শুভানুধ্যায়ী এবং মানিকগঞ্জ দরবার শরিফের আমার আধ্যাত্মিক গুরু বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচনী বিষয়ে ধৈর্য ও সতর্কতার পরামর্শ দিয়েছেন। আমি সেই পরামর্শকে শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করেছি।
সব দিক বিবেচনায় নিয়েই আমি এবারের নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের প্রতি অনাস্থার প্রকাশ নয়; বরং এটি আমার **নীতিগত অবস্থান ও গণতান্ত্রিক দায়বদ্ধতার ভিত্তিতে নেয়া সিদ্ধান্ত।
আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই—আগামীতে যখনই একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হবে কিংবা পরবর্তী নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত হবে, তখন দেশ ও জনগণের স্বার্থে আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে প্রস্তুত থাকবো।
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—নির্বাচন তখনই অর্থবহ, যখন জনগণ নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে এবং গণতন্ত্র জনগণের আস্থার জায়গা হয়ে ওঠে। সেই পরিবেশ তৈরির প্রত্যাশাতেই আমার এই অবস্থান।
সময়ই প্রমাণ করবে—সঠিক সিদ্ধান্ত কখন নিতে হয়।