সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন

শান্তিগঞ্জে আ’লীগ নেতা কর্তৃক প্রবাসীর ভূমি দখল করে মার্কেট নিমার্ণের অভিযোগ

Reporter Name / ৩৭১ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

মো আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের গাজীনগর গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে আওয়ামীলীগ নেতা আসাদ আবেদীন কর্তৃক পাথারিয়া বাজারে প্রবাসী সামছুল ইসলাম রাজা মিয়ার রেকর্ডীয় ভূমি জবরদখল করে মার্কেট নিমার্ণের অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিন ঘুরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাথারিয়া মৌজাস্থিত জেএলনং ১৬, আরএস খতিয়ান নং ১৮৬৫, বর্তমান আরএস দাগ নং ৪৭১৩,জমির পরিমাণ ৫ শতক, শ্রেণী ভিট রকম ভূমি (দোকান ঘর)।

পাথারিয়া বাজারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ব্যবসায়ি আরশ আলী বলেন, আমাদের পাথারিয়া বাজারে প্রবাসী সামছুল ইসলাম রাজা মিয়ার ৫ শতাংশ রেকর্ডীয় দোকান রকম ভূমি রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালী আসাদ আবেদীন প্রবাসী সামছুল ইসলাম রাজা মিয়ার ভূমিতে জোরপূর্বক আদাপাকা টিনসেড দালান কোটা তৈরি করে কিছু সংখ্যক ভূমি জবরদখল করে রেখেছে। ভূমি পরিমাপের জন্য রেকর্ডীয় মালিক সামছুল ইসলাম রাজা মিয়া বিজ্ঞ আদালতে আবেদন করলে আদালত কোর্ট কমিশন জারী করে। পরবর্তীতে গত ১৮/৮/২৫ ইং তারিখে কমিশন উভয় পক্ষকে নোটিশ দিয়ে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে সরেজমিন ভূমি পরিমাপে আসাদ আবেদীনের স্থাপনার ভেতরে ভূমি পাওয়া যায়। কোর্ট কমিশন ভূমি উদ্ধারের চেষ্টাকালে আসাদ আবেদীন দুই দিনের সময় চান কমিশনের কাছে। তিনি নিজ খরচে স্থাপনা ভেঙে সামছুল ইসলাম রাজা মিয়ার কাছে ভূমি বুঝিয়ে দেবেন বলে কোর্ট কমিশনে স্বাক্ষর করেন। এ দিকে দীর্ঘ প্রায় এক মাস অতিবাহিত হয়ে যাচ্ছে কিন্তু স্থাপনা না ভেঙে উল্টো প্রবাসী সামছুল ইসলাম রাজা মিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ভাবে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।

বাজারের ব্যবসায়ি হেলাল মিয়া বলেন, এই জায়গার প্রকৃত রেকর্ডীয় মালিক প্রবাসী সামছুল ইসলাম রাজা মিয়া। দীর্ঘদিন যাবৎ গাজীনগর গ্রামের আসাদ আবেদীন সামছুল ইসলাম রাজা মিয়ার জায়গায় আদাপাকা দালান ঘর নিমার্ণ করে ভোগদখলকার আছেন। গত মাসের ১৮ তারিখে জায়গা পরিমাপের জন্য কোর্ট কমিশন আসলে আসাদ আবেদীন কোর্ট কমিশনকে বলেছিল স্থাপনা ভেঙে রাজা মিয়াকে জায়গা সমজিয়ে দেবেন। কিন্তু আজও দেননি।

স্থানীয় ব্যবসায়ি কাঁচা মিয়া বলেন, এই ভূমির রেকর্ডীয় মালিক প্রবাসী সামছুল ইসলাম রাজা মিয়া। দীর্ঘদিন ধরে রাজা মিয়ার ভূমি জোরপূর্বক জবরদখল করে আসাদ আবেদীন স্থাপনা তৈরি করে রেখেছেন। বাজারে কোর্ট কমিশন আসার পর আসাদ আবেদীন কমিশনে স্বাক্ষর করে দুই কার্য দিবসের মধ্যে নিজ খরচে স্থাপনা ভেঙে পরিস্কার করে দেবেন বলে অঙ্গীকার করেও তিনি স্থাপনা ভেঙেননি। উল্টো প্রবাসীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

ভূমির রেকর্ডীয় মালিক প্রবাসী সামছুল ইসলাম রাজা মিয়া বলেন, আমি পাথারিয়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। পাথারিয়া বাজারে আমার রেকর্ডীয় ৫ শতাংশ টিনশেড দোকান রকম ভূমি রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা আসাদ আবেদীন তার শ্বশুর সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা মোস্তফা ও চাচা শ্বশুর বাজারের সভাপতি ইজারাদার বিএনপি নেতা আব্দুল মুমিনের ইন্দনে জোরপূর্বক আদাপাকা দালান ঘর নিমার্ণ করে ভোগদখলকার আছেন। আমার ভূমি পরিমাপ করার জন্য বিজ্ঞ আদালতে কোর্ট কমিশনের আবেদন করিলে আদালত কোর্ট কমিশন জারী করেন। পরে গত ১৮/৮/২৫ ইং তারিখে কমিশন উভয় পক্ষদ্বয়কে নোটিশ দিয়ে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে সরেজমিন ভূমি পরিমাপ করে আসাদ আবেদীনের স্থাপনার ভেতরে আমার রেকর্ডীয় ভূমি পাওয়া যাওয়ার পর লাল প্লেগ সম্বলিত নিশানা সাটিয়ে সীমানা নির্ধারণ করেছেন। তখন কমিশন আসাদ আবেদীনের স্থাপনার ভেতরের ভূমি উদ্ধারের চেষ্টাকালে আসাদ আবেদীন কমিশনের কাছে দুই দিনের সময় চান এবং তার নিজ খরচে স্থাপনা ভেঙে পরিস্কার করে আমার কাছে ভূমি হস্তান্তর করবেন। কিন্তু সে তা না করে উল্টো আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ভাবে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। আমার ভূমির চারপাশের সীমানায় ফাইলিং করে স্থায়ীভাবে পাকা পিলার নিমার্ণ করি। কিন্তু কিছু দিন পরেই দেখা যায় ফাইলিং পিলারের রড কে বা কারা কেটে নিয়ে যায়। এতে আমি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। ভূমি ছেড়ে দিবে বলে কমিশনের কাছে নিজ হস্তে স্বাক্ষর করে আসাদ আবেদীন এখন বলছে কমিশনের মাপ সঠিক হয়নি। তাদের ভয়ে বাজারের অধিকাংশ নিরীহ ব্যবসায়িরা সত্য কথা বলতে ভয় পায়। আমার ভূমি উদ্ধারের জন্য স্থানীয় প্রশাসনসহ জেলা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি এবং এই মিথ্যা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানাই।

আসাদ আবেদীন বলেন, এই জায়গার উপর আমার উচ্চ আদালতের স্ট্রে অর্ডার আছে। কিছুদিন আগে কোর্ট থেকে লোকজন এসে সামছুল ইসলাম রাজা চাচার জায়গা পরিমাপ করার পর তারা আমাকে ডেকেছে। আমি এসবের কিছুই জানি না। কোর্টের লোকজন আমাকে বলেছেন আপনি বাজারের কোষাধ্যক্ষ এখানে স্বাক্ষর করেন। পরে আমি স্বাক্ষর করেছি। স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য কোর্ট কমিশনের কাছে দুই দিন সময় নিয়েছি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন কোর্ট কমিশনের কোন এখতিয়ার নেই আমাকে সময় দেয়ার। এটা আমাদের পারিবারিক বিষয়। আমার চাচা সামছুল ইসলাম রাজা মিয়া দেশে আসলে বিষয়টি এমনিতেই নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। আমাকে কোর্ট সময় দেয়নি। আমার ফুফু দুই দিনের সময় দিয়েছে। এই ভূমির মালিকও আমার আরেক চাচা। তারা যদি সঠিক মাপঝোঁক করে আমার ভেতরে জায়গা পায় তাহলে আমি ছেড়ে দেব। বিদ্যুৎতের কুটি এবং রাস্তার বিষয়ে আমার কোন মাথা ব্যথা নাই।

বাজারের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রবাসী সামছুল ইসলাম রাজা মিয়ার জায়গা জবরদখল করে স্থাপনা তৈরি করেছেন আসাদ আবেদীন। গত কিছুদিন পূর্বে জায়গা পরিমাপের জন্য বাজারে কোর্ট কমিশন এসেছিল। উভয় পক্ষকে সামনে রেখে জায়গা পরিমাপ করে আসাদ আবেদীনের স্থাপনার ভেতরে রাজা মিয়ার জায়গা পাওয়ার পর আসাদ আবেদীন কমিশনের কাছ থেকে সময় চান যে নিজ খরচে স্থাপনা ভেঙে পরিস্কার করে সামছুল ইসলাম রাজা মিয়ার কাছে জায়গা সমজিয়ে দেবেন। কিন্তু এখনও সে তার স্থাপনা ভেঙেননি।

পাথারিয়া ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বাজারের ভূমি পরিমাপের বিষয়ে আমাকে কেউ জানায়নি। তবে বাজারের সরকারি খাস ভূমি উচ্ছেদের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করার পর একটি পক্ষ আমাকে হুমকি দিয়েছে আমার অফিসের ভেতরে মানববন্ধন করার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা

সম্পাদকীয়

সম্পাদক ও প্রকাশক