রাজিবপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে, ২৮ কুড়িগ্রাম-৪ (রৌমারী, রাজিবপুর ও চিলমারী) আসনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। দিন -রাতে চলছে প্রার্থী ও কর্মীদের ভোট চাওয়া। চলছে গণসংযোগ, মিছিল -মিটিং ও জনসভা।
এই আসনে মোট ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। চিলমারী, রৌমারী, রাজিবপুরের দুর্গম চরাঞ্চল থেকে শুরু করে লোকালয় সর্বত্রই এখন নির্বাচনের উত্তাপ।
ভোটারদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোড়ন। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন এই জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি নদের ওপর একটি স্থায়ী সেতু ও ঢাকার সাথে রেল লাইন সংযোগ।
প্রতিশ্রুতির বন্যায় ভাসছে চরাঞ্চল ভোটারদের মন জয় করতে প্রার্থীরা চষে বেড়াচ্ছেন দুর্গম এলাকাগুলো। তাদের মুখে শোনা যাচ্ছে উন্নয়নের নানা রঙিন প্রতিশ্রুতি।
কেউ দিচ্ছেন ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর মেগা সেতু নির্মাণের আশ্বাস, আবার কেউ বলছেন রৌমারী পর্যন্ত রেললাইন সংযোগের কথা।
শুধু অবকাঠামো নয়, প্রার্থীদের প্রচারণায় গুরুত্ব পাচ্ছে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ গঠন, শিক্ষার আমূল পরিবর্তন, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং এলাকাকে পুরোপুরি মাদকমুক্ত করার অঙ্গীকার।
লড়াইয়ে থাকা ৭ প্রার্থী ও তাদের প্রতীক প্রথমত. আজিজুর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বিএনপির হয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন তিনি।
দ্বিতীয়ত তারই বিমাতা ভাই মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনিও যাদুরচর ইউনিয়নের যাদুরচর নতুন গ্রাম এলাকার বাসিন্দা।
তৃতীয়ত এম ফজলুল মণ্ডল (জাতীয় পার্টি): জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীক নিয়ে মাঠে আছেন। তার আদি নিবাস রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নের চর কাজাইকাটা গ্রামে।
চতুর্থত মো. রোকনুজ্জামান (স্বতন্ত্র): স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘বালতি’ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। তিনি চিলমারী উপজেলার মন্ডলপাড়া এলাকার বাসিন্দা। ২ বারের উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান।
পঞ্চমত সহকারী অধ্যাপক মো. হাফিজুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে ‘হাতপাখা’ প্রতীক নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে আছেন। তার বাড়িও রৌমারীর যাদুরচর ইউনিয়নের শ্রীফলগাতি বাসিন্দা। তিনি প্রার্থী আজিজুর রহমান এবং মোস্তাক এর ভাতিজা।
৬ষ্ঠ রাজু আহমেদ বাসদ (মার্কসবাদী): কাঁচি প্রতীক নিয়ে লড়ছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী তিনি। গাইবান্ধা পৌরসভার ২ নং কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা হলেও এই আসনে তিনি বেশ তৎপর। তার পিতার বাড়ি চর রাজিবপুর উপজেলার মরিচাকান্দি গ্রামে।
সপ্তমতম শেখ মোহাম্মদ আব্দুল খালেক (বাসদ): বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) থেকে মই প্রতীক নিয়ে মাঠে আছেন । তিনি রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের দক্ষিণ টাপুর চর এলাকার বাসিন্দা।
নির্বাচনী প্রচারণায় প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি থাকলেও সাধারণ ভোটারদের দাবি এবার অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট।
রাজিবপুর, চিলমারী ও রৌমারীর মানুষের কাছে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নদী ভাঙন। প্রতি বছর ব্রহ্মপুত্রের করাল গ্রাসে হাজারো মানুষ ভিটেমাটি হারায়, তাই ভোটারদের প্রধান দাবি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও নদী শাসনের মাধ্যমে এই জনপদকে রক্ষা করা।
চরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একটি বিশাল সেতু এবং রৌমারী পর্যন্ত সরাসরি রেললাইন সংযোগ।
সড়ক ও রেলপথে ঢাকার সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন হলে এই এলাকার অর্থনীতির চিত্র আমূল বদলে যাবে বলে সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করেন। এছাড়াও ভোটারদের অন্যান্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: রৌমারীতে দ্রুত ‘পৌরসভা’ ঘোষণা ও পূর্ণাঙ্গ নদী বন্দর বাস্তবায়ন করে আধুনিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা।
সরকারি কলেজগুলোতে অনার্স কোর্স চালু করা এবং আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের মান উন্নয়ন। তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়া, আধুনিক স্টেডিয়াম ও বিনোদন পার্ক নির্মাণ। মেহনতি ও গরিব মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং বন্যার হাত থেকে ফসল ও জানমাল রক্ষার টেকসই ব্যবস্থা করা।
তবে নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে,ততই ভোটারদের মধ্যে হিসাব নিকাশ নিয়ে হচ্ছে দর কষাকষি। কেউ বলছে বিএনপির ধানের শীষ মার্কা এমপি হবে।আবার কেউ বলছে,তার বিমাতা ভাই মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক এর দাঁড়িপাল্লা কে ঠেকাতে পারবেনা। অপরদিকে চিলমারী থেকে একক প্রার্থী মো. রোকনুজ্জামান স্বতন্ত্র প্রার্থী বালতি প্রতিকের জয় হওয়ার কল্পনা করছেন সাধারণ ভোটারগণ। তবে আওয়ামী সমর্থকের ভোট যে দিকে বেশী পড়বে সে বিজয়ী হবে।