মোহাম্মদ শাহাদাত আলম অন্তর : কুমিল্লার লালমাই উপজেলার যুক্তিখোলা ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বহুদিনের ব্যবহৃত খেলার মাঠ লিজ দেওয়ার উদ্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা। মঙ্গলবার ৭ এপ্রিল সকাল ১১টায় মাদ্রাসা সংলগ্ন বাগমারা-যুক্তিখোলা আঞ্চলিক সড়কে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার একমাত্র উন্মুক্ত স্থান হিসেবে ব্যবহৃত মাঠের একটি অংশ ‘পেরিফেরি’ হিসেবে দেখিয়ে লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ও সহশিক্ষা পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, আজবপুর মৌজায় অবস্থিত মোট ৬৬ শতক জমির মধ্যে ৪৬ শতক মাদ্রাসার নামে বিএস খতিয়ানভুক্ত এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করা হচ্ছে। বাকি ২০ শতক জমি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত হলেও দীর্ঘদিন ধরে সেটি খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
স্থানীয়দের দাবি, ১৯৯১ সালে প্রশাসনের নির্দেশনায় পুকুর ভরাট করে পুরো জায়গাটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উপযোগী করা হয়। বর্তমানে প্রায় ১২০০ শিক্ষার্থী এই মাঠে খেলাধুলা ও বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ওই ২০ শতক জমি সড়ক সংলগ্ন উল্লেখ করে লিজ নিয়ে সেখানে গরুর হাট স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। এমনটি হলে শিক্ষার্থীদের একমাত্র খেলার মাঠ ধ্বংস হয়ে যাবে এবং তাদের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হবে।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবদুল মোতালেব মজুমদার, সহ-সভাপতি মাওলানা তাজুল ইসলাম, সদস্য মাওলানা মমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। এছাড়া মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করেন।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. মোস্তফা কামাল বলেন, “এই মাঠটি আমাদের শিক্ষার্থীদের একমাত্র খোলা জায়গা। এখানে গরুর হাট বসানো হলে শিক্ষা পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
জানা গেছে, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে কুমিল্লা জজ আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
মানববন্ধন থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় খেলার মাঠটি লিজ না দিয়ে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হোক।