জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরের মেলান্দহে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালনের জন্য সাধারণ আনসার সদস্য নিয়োগে টাকা লেনদেনসহ ভূয়া সনদ দিয়ে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
নিয়ম অনুযায়ী আনসার সদস্য নিয়োগ বিনা খরচে হওয়ার কথা থাকলেও মাঠপর্যায়ে টাকা দিয়ে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে হচ্ছে। এমনই অভিযোগ ইউনিয়ন কমান্ডারদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের।
উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ে একটি জাল সনদ পাওয়া যায়। যা চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই করে নিয়োগ দেয়া হয়েছে পূজায় দায়িত্ব পালনের জন্য।
কয়েকজন আনসার সদস্য অভিযোগ করে বলেন, টাকা ছাড়া যোগ্য হলেও ডিউটিতে নেয়া হয় না। টাকা দিলেই ডিউটিতে যাওয়ার সুযোগ করে দেয় কমান্ডাররা।
নজরুল ইসলাম (৪০) নামে এক ব্যক্তি ভূয়া সনদ জমা দিয়ে পূজা মন্ডপে ডিউটি তালিকায় নাম উঠান।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমি নাংলা ইউনিয়ন আনসার ভিডিপি দলনেত্রী নুরুন্নাহারের কাছে টাকা দিয়ে ডিউটিতে এসেছি।
তবে কত টাকার বিনিময়ে তাকে সুযোগ দেয়া হয়ে এ বিষয়ে কিছু বলেন নি।
একজন ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ডিউটি করা আমাদের দায়িত্ব। কিন্তু দায়িত্ব পালনের জন্য টাকা দিতে হলে সেটা চরম অনিয়ম। এতে যোগ্যরা বঞ্চিত হচ্ছেন, অনৈতিকভাবে দায়িত্ব বণ্টন করা হচ্ছে।
আদ্রা ইউনিয়নের বাসিন্দা মোছা: রুবিনা বলেন, চলমান দুর্গা পূজায় ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডিউটি দেয়ার কথা বলে ৪ হাজার টাকা ঘুষ নেয়। তবে তাকে পূজায় কোন দায়িত্ব দেয়া হয় নাই, পরবর্তীতে টাকা ফেরত দিয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে অর্থ আদায় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মেলান্দহ উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা সৈয়দা হেলেন শাহেনা বলেন, ভূয়া সনদ দিয়ে ডিউটি করার সুযোগ নেই। যাদের সনদে সমস্যা তাদের ডিউটি বাতিল করা হবে। কেউ অর্থ নিয়ে থাকলে সেটাও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।