মো, সোহরাব আলী তেঁতুলিয়া পঞ্চগড় প্রতিনিধি :
তেঁতুলিয়া উপজেলার ৪ নং ইউপি চেয়ারম্যানের বহিষ্কার আদেশ ঠেকাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিরুদ্ধের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর ভিডিও ও অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে ৪ নং শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে।
এ দিকে নিজের চেয়ার বাঁচাতে উদ্দেশ্যে প্রনোদিতভাবে ওই চেয়ারম্যানের কার্যক্রলাপের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে উপজেলার অন্যান্য ৬টি ইউনিয়ন পরিষদেরের চেয়ারম্যানরা। প্রচারিত ভিডিও ও বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।
শনিবার ১৪ মার্চ বিকেলে তেঁতুলিয়া উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তারা।
জানা যায়, অভিযুক্ত আশরাফুল ইসলাম তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ১৩ মার্চ রাতে উপজেলার ৪নং শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে একটি লাইভ করেন। সেখানে তিনি কমিশন ছাড়া কোনো বিল পাশ হয় না বলে মন্তব্য করেন। তবে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানরা মনে করেন, এটি তার ব্যক্তিগত বক্তব্য এবং বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো সামঞ্জস্য নেই।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, উপজেলার সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা নিয়ম অনুযায়ী কাজ শতভাগ সম্পন্ন করার পরই বিল উত্তোলন করে থাকেন। বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাজ সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন না হলে কোনো বিল অনুমোদন করা হবে না। তিনি ইতোমধ্যে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) সকল প্রকল্পের কাজ পুনরায় যাচাই-বাছাই করার নির্দেশনাও দিয়েছেন।
এছাড়া চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলামের আইডি থেকে যে টাকা লেনদেনের ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে, সে বিষয়ে ইউএনও অবগত ছিলেন না বলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। ওই সময় ইউএনও অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযানে ব্যস্ত ছিলেন। ভিডিওতে যে ব্যক্তিকে দেখা যায় তিনি উপজেলা প্রশাসনের কেউ নন৷
একইসঙ্গে অভিযোগ করা হয়, শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম বিভিন্ন সময়ে আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে অন্য চেয়ারম্যানদের কাছে সুপারিশ করেছেন এবং অবৈধ সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তারা।
এছাড়া গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ও উপজেলা পরিষদের নিবাচনে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে মুঠোফোন নিয়ে ব্যালটে সিল মেরে ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করে সমালোচনা, একাধিক তার বিরুদ্ধে মামল ও হয়েছে।