তৌফিকুর রহমান তাহের, বিশেষ প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে জেএ টিভির ক্রাইম রিপোর্টার জাহাঙ্গীর চৌধুরী রিফাত এক অনাকাঙ্ক্ষিত মব কালচার ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন। গত ১২ এপ্রিল রবিবার দিরাই পৌর শহরের ‘সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ ডা. মনি রানীর ব্যক্তিগত চেম্বারে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে স্থানীয় জামায়াত নেতা ইমরান ও তার অনুসারীদের হাতে এই হেনস্তার শিকার হন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সংবাদকর্মী রিফাত ডা. মনি রানীর চেম্বারে একটি বিষয়ের তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রবেশ ও একটি ভিডিও ধারণ করেন। সেখানে গোপন ক্যামেরায় ধারণকৃত একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় দিরাইয়ে। অভিযোগ উঠেছে, এই ভিডিও ধারণের অজুহাতে স্থানীয় জামায়াত নেতা ইমরান নিজের প্রভাব খাটিয়ে একদল লোক জড়ো করে রিফাতকে নানাভাবে লাঞ্ছিত করেন এবং ‘মব’ সৃষ্টি করে জনরোষ তৈরির চেষ্টা করেন।
ভুক্তভোগী রিফাত দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামের বাসিন্দা হলেও পেশাগত কারণে দীর্ঘদিন ধরে সুনামগঞ্জ জেলা সদরে বসবাস করছেন। তিনি জানান, ইমরান আমাকে রাজনৈতিক ট্যাগ (সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী) লাগিয়ে উত্তেজিত জনতাকে উসকে দেয়ার চেষ্টা করেছেন। তার ফোনালাপের কল রেকর্ডে সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। একজন সংবাদকর্মীর ওপর এমন পরিকল্পিত হামলা ও মব সৃষ্টি অত্যন্ত নিন্দনীয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা ইমরানের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তার পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, ডা. মনি রানী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সেদিন একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল। তবে সংবাদকর্মী রিফাতের সাথে আমার ভুল বোঝাবুঝির বিষয়টি সুন্দরভাবে সমাধান হয়ে গেছে। ইমরান কেন বা কী উদ্দেশ্যে তার সাথে এমন আচরণ করেছেন, সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না।
সংবাদকর্মী রিফাত মনে করেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক সংগঠন। তাই তিনি কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত অপকর্মের দায় সংগঠনের ওপর না চাপিয়ে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি আশা করেন, সংবাদকর্মীর পেশাগত নিরাপত্তা রক্ষায় দলটির দায়িত্বশীলরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।