সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৭ পূর্বাহ্ন

ধর্মপাশা থানার এস. আই মিজানুর রহমান কর্তৃক প্রবাসীর স্ত্রীকে দিয়ে মামলা বাণিজ্যের প্রতিবাদ 

Reporter Name / ১২৩ Time View
Update : শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

মো আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা থানার এস. আই মিজানুর রহমান কর্তৃক প্রবাসীর স্ত্রীকে দিয়ে মামলা বাণিজ্যের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার সকালে শহরের মুক্তারপাড়া এলাকায় এই সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগীর স্ত্রী রিছমা আক্তার।

সংবাদ সম্মেলনে রিছমা আক্তার জানান, তিনি শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব গাগলা ইউনিয়নের চিকারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী আবাবিল কিন্ডার গার্টেনের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও ইন্টারনেট ক্যাবল ব্যবসায়ী সুজন মিয়া।

তিনি জানান, সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ থানার এস.আই মিজানুর রহমান কর্তৃক একই গ্রামের প্রবাসীর স্ত্রী সেলিনা বেগম (৩৫)কে দিয়ে আমার স্বামী ব্যবসায়ী সুজন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ‍্য করে আসছিল। তার পরিবারকে নানা হয়রানি করে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। পরে ওই এস. আই মিজানুর রহমান বদলী হয়ে ধর্মপাশা থানায় যোগদান করে চাকুরিতে আছেন।

তিনি জানান, সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ থানায় চাকুরিতে থাকাকালীন সময়ে প্রবাসীর স্ত্রী ২ সন্তানের জননী কর্তৃক আবাবিল কিন্ডার গার্টেনের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও ইন্টারনেট ক্যাবল ব্যবসায়ী তার স্বামী সুজন মিয়ার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক সাজানো মামলা দিয়ে  হয়রানি করছে। শান্তিগঞ্জ থানার সাজানো নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা নং- ৫, তারিখ ১৮/৮২৫ইং।

তিনি জানান, আবাবিল কিন্ডারগার্টেন স্কুলে প্রবাসীর মেয়ে পড়াশোনা করতেন। তখন সুজন মিয়া স্কুলের সভাপতি ছিলেন। সেই সুবাদে পরিচয় হয় সুজন মিয়ার সাথে ওই প্রবাসীর স্ত্রীর। প্রবাসীর স্ত্রীর অভিযোগ তার ১২ বছরের মেয়েকে জিম্মি করে প্রবাসীর স্ত্রী সেলিনা বেগমকে দফায় দফায় ধর্ষণ করেছে সুজন মিয়া।

তিনি জানান, তার দায়ের করা মিথ‍্যা মামলায় উল্লেখ করেন বিগত প্রায় তিন বছর যাবৎ দফায় দফায় অথাৎ গত ১৫/৮/২৩ইং রাত সাড়ে ১১ টার সময়,গত ২৩/৭/২৫ইং রাত সোয়া ১১ টার সময়, গত ১২/৮/২৫ইং রাত অনুমান সাড়ে ১০ টার সময় ধর্ষণ করে সুজন মিয়া। অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত না করেই থানায় মামলা এফআইআরও হয়। এই মামলা সম্পূর্ণ মিথ‍্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি এই মামলা দায়েরে তীব্র প্রতিবাদ জানান।

রিছমা আক্তার জানান, প্রবাসীর স্ত্রী সেলিনা বেগমের সাথে শান্তিগঞ্জ থানার এস. আই মিজানুর রহমানের দীর্ঘদিন আগে থেকে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে উঠে। টানা ১৮ বছর যাবত তছকির আলী প্রবাসে ছিলেন। এই সময়ের ভেতর এই রকম আরো কয়েক জনের সাথে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। সেগুলোও স্থানীয়ভাবে সমাধান হয়েছে।

তিনি জানান, থানায় মামলা দেওয়ার আগে একই গ্রামের প্রবাসীর স্ত্রী সেলিনা বেগম

আমার স্বামীর কাছ থেকে সাত লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিল। ওই সময়ে শান্তিগঞ্জ থানার এস. আই মিজানুর রহমানের কু-পরামর্শে এবং আমার স্বামীর পাওনা টাকা আত্মসাত করার জন্য ধর্ষণের মামলা করে থানায়। ওই ধর্ষণ মামলার আপোষ মিমাংসার জন‍্য সেলিনা বেগম আরো নগদ দুই লক্ষ টাকা দাবি করে তার স্বামী সুজন মিয়ার কাছে।

ভুক্তভোগীর স্ত্রী রিছমা আক্তার জানান,থানায় অভিযোগ করার পর পরেই এস,আই মিজানুর রহমান দুইজন পুলিশ সদস্য নিয়ে রাতের আঁধারে আমার পাবলিক সার্ভিসের বিদেশি ল্যাপটপ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আমার কাছে তার ভিডিও ফুটেজ আছে। প্রবাসীর আত্মীয় স্বজনেরা রাতের বেলায় সপ্তাহে ২/৩ বার আমাদের ইন্টারনেট সার্ভিস লাইনের তার কেটে নিয়ে যাওয়ায় এবং মামলার ভয়ে আমার স্বামী অন্যত্র পালিয়ে থাকায় ব্যবসায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। তখন সেলিনা বেগমের প্রবাসী স্বামী তছকির আলী মামলা নিষ্পত্তির জন্য সুজন মিয়ার ভাই হিরন মিয়াকে দুই লক্ষ টাকা যোগাড় করে শালিশের তারিখ দেওয়ার জন্য বলেছেন। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে বলছি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যদি আমার স্বামী অপরাধ করে থাকেন তাহলে তার শাস্তি হোক আর যদি ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখে প্রবাসীর স্ত্রী অপরাধ করে থাকেন তাহলে তার শাস্তির জোর দাবি জানাই।

রিছমা আক্তার জানান, প্রবাসীর স্ত্রী দুই সন্তানের জননী। মেয়ের বয়স ১২ বছর। প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে এস,আই মিজানুর রহমানের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। তিনি প্রায়ই প্রবাসীর বাড়িতে আসতো। এই মামলার বিষয়ে বিজ্ঞ আদালত তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার আগেই এসআই মিজানুর রহমান বাদী পক্ষের লোকজন নিয়ে সুজন মিয়ার বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে ঘরে থাকা স্ট্রীল আলমিরা,ওয়ারডোপ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র খুলে টেনে হিঁচরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছেন।

তিনি সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক ন‍্যায় বিচার পেতে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সুজনের শ্বশুড় নুর মিয়া, সুজনের আপন ভাই হিরন মিয়া, চাচাতো ভাই আশিক মিয়া, ভাতিজি জাহিদা খাতুন ও স্বপনা বেগম,শ‍্যালক শাহীনুর মিয়া।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা

সম্পাদকীয়

সম্পাদক ও প্রকাশক