‘মোঃ তানভীর আজাদ’
রাজনীতি শুধু একটি শব্দ নয়—রাজনীতি একটি আদর্শ, একটি দায়িত্ববোধ এবং একটি উন্নত সংস্কৃতি। একটি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে রাজনীতির ভূমিকা অপরিসীম। সুস্থ রাজনীতি মানেই সুস্থ সমাজ ও শক্তিশালী রাষ্ট্রব্যবস্থা।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতি আওয়ামী লীগের অনেক বর্ষীয়ান নেতার মুখেও প্রশংসার কথা শোনা গেছে বিভিন্ন সময়ে। এটি প্রমাণ করে—রাজনীতি কেবল প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করার নাম নয়; বরং রাজনৈতিক শিষ্টাচার, সৌজন্যবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধারও পরিচয়।
একজন রাজনৈতিক নেতা একদিনে তৈরি হন না। বছরের পর বছর—দশকের পর দশক—নির্যাতন, নিপীড়ন, হামলা-মামলা, কারাবরণসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েই একজন মানুষ ধীরে ধীরে পরিণত রাজনীতিবিদে রূপ নেন। এসব ত্যাগের ভেতর দিয়েই গড়ে ওঠে তার রাজনৈতিক চরিত্র ও নেতৃত্বের ভিত্তি।
সাধারণ মানুষ দিনশেষে তার সুখ-দুঃখ, কষ্ট, বঞ্চনা ও না-পাওয়ার বেদনাগুলো একজন রাজনৈতিক নেতার কাছেই তুলে ধরতে চায়। তারা আশা করে, নেতা এসব কথা মনোযোগ দিয়ে শুনবেন, বুঝবেন এবং দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—আমরা কি সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারছি?
রাজনীতিতে বিভিন্ন দল থাকবে, মতের ভিন্নতা থাকবে, মতের মিল-অমিল থাকবে—এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু সব কিছুর ঊর্ধ্বে আমরা মানুষ। তাহলে কেন বক্তব্যের মাধ্যমে একজন আরেকজনকে মানসিক ও সামাজিকভাবে আঘাত করবে? কেন আমাদের রাজনীতিতে ধৈর্য, সহনশীলতা, সম্প্রীতি ও শান্তির চর্চা থাকবে না?
একজন রাজনীতিবিদ সমাজের সবচেয়ে বড় শিক্ষক। মানুষ তার কাছ থেকেই শিখে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি, গণতন্ত্রের মূল্যবোধ, সহনশীলতা ও মানবিকতা। কিন্তু আজ আমরা কোন পথে এগোচ্ছি? কেউ কাউকে মানছে না, প্রতিশোধ ও হিংসাকেই রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেয়া হচ্ছে।
কে কত বড় নেতা হবেন, কে কত দ্রুত এমপি বা মন্ত্রী হবেন—এই প্রতিযোগিতায় মুহূর্তের মধ্যেই বিসর্জন দেয়া হচ্ছে আদর্শ। স্বার্থের রাজনীতি গ্রাস করছে মূল্যবোধের রাজনীতিকে। অথচ ইতিহাস বদলানো যায় না, এবং রাজনীতিবিদদের রাজনীতি করতেই হবে—কারণ রাজনীতি কোনো নোংরা খেলা নয়, রাজনীতি একটি উন্নত শিল্প ও সংস্কৃতি।
পরিবর্তন আসবেই, পরিবর্তন হতেই হবে। সময়ের প্রয়োজনে, আগামী বাংলাদেশের প্রয়োজনে আমাদের নিজেদের বদলাতে হবে। আর কতকাল শুধু রাজপথের উত্তপ্ত স্লোগান আর আক্রমণাত্মক বক্তব্যে সমাধান খুঁজবো?
সমাধান আসবে সম্প্রীতি, সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও অনুপ্রেরণামূলক কর্মের মাধ্যমে। মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় জায়গা করে নিতে হলে শক্তি নয়—মানবিকতা, আদর্শ ও দায়িত্বশীল রাজনীতির মাধ্যমেই আমাদের জয়ী হতে হবে।
মোঃ তানভীর আজাদ
প্রকাশক : Daily News10 Online