স্টাফ রিপোর্টার : কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার শিয়ালোড়া গ্রামের গৃহবধূ মিসেস রাবেয়া খাতুন (৪৫) স্বামীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের নির্যাতন, পরকীয়া ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তিনি প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রাবেয়া খাতুন জানান, তিনি বরুড়া উপজেলার ধনিশ্বর ডাকঘরের শিয়ালোড়া গ্রামের মির্দা বাড়ির বাসিন্দা। তাঁর পিতা ইউছুফ আলী এবং স্বামী মোঃ জুবায়ের হোসেন। ১৯৯৭ সালে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তার স্বামী বিভিন্ন নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো এবং অনেক সময় বাড়ি থেকেও বের করে দেয়া হতো।
রাবেয়া খাতুন আরও বলেন, গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে তার স্বামী বরুড়া উপজেলার জীবনপুর কাওলীপাড়া এলাকার সুমি নামের এক নারীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িত। তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ভাড়া বাসায় একসঙ্গে বসবাস করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়টি জানতে পেরে তিনি তাদের হাতেনাতে ধরেন এবং মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন বলে দাবি করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে প্রায় ৩০টির মতো সালিশ বৈঠক হলেও তার স্বামী কোনো সিদ্ধান্ত মানেননি বলে অভিযোগ করেন রাবেয়া।
তিনি আরও জানান, সর্বশেষ গত ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ সকাল প্রায় ১০টার দিকে স্বামীর মোবাইল ফোনে আপত্তিকর ছবি ও বার্তা দেখতে পেয়ে বিষয়টি জানতে চাইলে তার স্বামী ক্ষিপ্ত হয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারধর করেন। পরে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেন।
বর্তমানে তিনি নিজের মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানান। তিনি ও তার সন্তানরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং যে কোনো সময় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন।
এ অবস্থায় তিনি প্রশাসনের কাছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে তার ও তার সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জোর দাবি জানান।