সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ এলজিইডির ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী গোলাম সারোয়ার নয়ন এর বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স দেয়ার নামে ঠিকাদারদের সাথে প্রতারণা, অসদ আচরণ ও ব্যাপক অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় এলজিইডির তালিকাভুক্ত ভুক্তভোগী ঠিকাদার মেসার্স তানভীর এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটার মো তানভীর আহমেদ প্রতারক, দূর্নীতিবাজ নয়নের বিরুদ্ধে গত ১৩ অক্টোবর নিবার্হী প্রকৌশলী সুনামগঞ্জ বরাবরে লিখিত অভিযোগ সহ সদয় অবগতির জন্য প্রধান প্রকৌশলী এলজিইডি আগারগাঁও ঢাকা, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এলজিইডি সিলেট, জেলা প্রশাসক সুনামগঞ্জ বরাবরে অনুলিপি প্রদান করেছেন।
অভিযোগকারী তানভীর আহমেদ জানান, সুনামগঞ্জ এলজিইডি অফিসে প্রায় সময় আমি কাজের সুবাদে আসা-যাওয়া করি। এই অফিসে কর্মরত ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী গোলাম সারোয়ার নয়ন আমাকে প্রসঙ্গক্রমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১টি লাইসেন্স ম্যানেজ করে দিবে বলে আমাকে প্রস্তাব দেয়। পরে তার প্রতি বিশ্বাস করে একটি লাইসেন্স করতে বলি এবং তাকে প্রশ্ন করি আপনি এলজিইডিতে চাকুরি করেন কিন্তু আমাকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স কিভাবে দেবেন? তখন সে আমাকে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে তার লোক সেটিং করা আছে। লাইসেন্স দেয়া তার পক্ষে ব্যাপারেই না। আমিও ওই অফিসে লাইসেন্স এর কাজ করি। এই বলে আমাকে তাৎক্ষণিক নিদিষ্ট কিছু কাগজ পত্র দিতে বলেন। পরে আমি তাকে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র দেয়ার পর লাইসেন্স করে দেই দিচ্ছি বলে বেশ কয়েক মাস যাবৎ সময় ক্ষেপন করে। এক পযার্য়ে সে কৌশল অবলম্বন করে বিভিন্ন ধরনের খরচ দেখিয়ে আমার কাছ থেকে সর্বমোট চল্লিশ হাজার টাকা নেয়। আমার মত আরো কয়েকজন ঠিকাদারের কাছ থেকে টাকা নিয়ে এরকম করেছে। টাকা নেয়ার পরও সে আমার লাইসেন্স দিতে বিলম্ব করার কারণে এক পযার্য়ে আমি তার কাছে টাকা ফেরত চাইলে সে আমাকে চল্লিশ হাজার টাকা লাইসেন্স বাবদ খরচ হয়ে গেছে তোমার পাওনা টাকা দিয়ে দেব বলে আশ্বস্ত করে আরো কয়েক মাস যাবৎ তালবাহানা করে আমাকে হয়রানি করেছে। পরবর্তীতে গত ৪/১০/২৫ইং তারিখে আমি তার কাছে আবার টাকা চাইতে গেলে সে উত্তেজিত হয়ে বলে আমি সরকারি চাকুরি করি কারো বাবার টাকায় চলি না তোর মত লোক আমার কিছু করতে পারলে করিস, এখান থেকে যা নইলে তোকে বাঁশ দিতে আমার বেশি সময় লাগবে না। এছাড়াও সে ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারি হয়ে সুনামগঞ্জ জেলা শহরে দশ কাটা জমি ও তার নিজ এলাকা বিশ্বম্ভরপুর কারেন্টের বাজারে পাঁচ একর জমি ক্রয় করেছে। যা অসৎ উপায় অবলম্বন ছাড়া সম্ভব নয়। তার চাকুরির বাহিরেও সে দাদন ব্যবসার সাথে জড়িত। আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো আনোয়ার হোসেন জানান, অভিযোগ পেয়ে সিলেট এলজিইডি বরাবরে বিহিত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রতিবেদন প্রেরণ করেছি।