মো আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : বিশ্বম্ভরপুরে একজন অসহায় কৃষকের ভোগদখলীয় রেকর্ডীয় জমিতে চারা রোপণ করতে বাঁধা দেয়ায় জমির মালিক আসমা বেগম বাদী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের পিরোজপুর গ্রাম সংলগ্ন সজনার হাওরে ঘটনাটি ঘটেছে।
অভিযোগ মাধ্যমে জানা যায়, পিরোজপুর মৌজাস্থিত ১৩ নং আর এস খতিয়ানে আছমা বেগমের নামে রেকর্ডভুক্ত হয় ৮ শতাংশ। একই মৌজার ৮,৩৬ ও ৪৭৯ নং আর,এস খতিয়ানে আছমা বেগমের স্বামী ইউপি সদস্য মো আব্দুল হেকিমের নামে রেকর্ডভুক্ত হয় ১৩৬ শতাংশ। এদিকে দলিল মূলে আব্দুল হেকিম আরো ২৮ শতাংশের রেকর্ডীয় মালিক। মোট ফসলি জমির পরিমাণ হল পৌঁনে ৪ কেয়ার। ইউপি সদস্য মো আব্দুল হেকিম দীর্ঘদিন যাবৎ বসতবাড়িতে না থাকায় তার ছেলে আফজাল হোসেন চাষের মেশিন নিয়ে জমিতে চাষ শুরু করলে একই গ্রামের মনির মিয়া তার ছেলে লিটন মিয়া, সাহাজউদ্দীন, সবুজ মিয়া,শিপন মিয়া, শাওন মিয়া, রোকনউজ্জামান গংরা বাঁধা দেয়ার এক পযার্য়ে জমিতে চাষ না দিয়ে সে বাড়ি ফিরে যান। পরবর্তীতে জমির মালিক আছমা বেগম বাদী হয়ে বিশ্বম্ভরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে এস, আই জসিম উদ্দিন ঘটনা পরিদর্শন করেছেন।
জমির মালিক ইউপি সদস্য মো আব্দুল হেকিম বলেন,গত ৫ আগষ্টের পর থেকে আমি বাড়িতে ছিলাম না। আমি ফতেপুর ইউনিয়নে টানা তিন বারের বর্তমান মেম্বার ও প্রাচীনতম বিদ্যাপীট মুরারি চাঁদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি। আমার রেকর্ডীয় জমিতে আমার ছেলে ধান রোপণের জন্য চাষাবাদ করতে গেলে প্রভাবশালী প্রতিপক্ষ মনির মিয়া এবং তার ছয় ছেলে মিলে আমার ছেলেকে জমি থেকে উঠিয়ে দেয়। জমি গুলো পতিত থাকার কারণে আমার প্রায় ৭০/৮০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি আমার একটি রেকর্ডীয় ডুবির মাছ লুটপাট করে নিয়ে যায় প্রতিপক্ষ গংরা। এতে আমি প্রায় আরো দুই লক্ষ টাকার উপরে ক্ষতি সাধিত হই। মাছ লুটপাটের ঘটনায় আমি বিজ্ঞ আদালতে ক্ষতিপূরণের
মামলা করেছি। ওই চক্রটি আমাকে বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্থ এবং হয়রানি করছে। মনির মিয়া গংরা যে জমিতে চারা রোপণে বাঁধা নিষেধ করেছে সেগুলো আমার ক্রয়কৃত ভূমি। সেখানে তাদের কোন অংশ নেই। আমি প্রশাসনের কাছে ন্যায় বিচার আশা করছি।
ভুক্তভোগী আছমা বেগম বলেন, আমার ছেলেকে পাঠিয়েছি জমিতে চাষ দিয়ে ধানের চারা রোপণ করার জন্য। কিন্তু প্রতিপক্ষ মনির মিয়া গংরা জোরপূর্বক আমার ছেলেকে জমি থেকে উঠিয়ে দেয়। পরে আমি বিশ্বম্ভরপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। বাধা দেয়ার কারণে যে জমি পতিত রয়েছে সেগুলির রেকর্ডীয় মালিক আমি ও আমার স্বামী। মনির গংদের দাবি হল এজমালি এবং সরকারি খাস জমিতে।
পাশ্ববর্তী জমির মালিক কৌয়া গ্রামের রিপটন চৌধুরী বলেন, যুগযুগ ধরেই এই জমিতে ফসল ফলাইয়া আসছেন জমির রেকর্ডীয় মালিক ইউপি সদস্য মো আব্দুল হেকিম। কিন্তু ইদানিং ধানের চারা রোপণ করতে বাঁধা দেন মনির মিয়া ও তার ছয় ছেলে। মূলত পট পরিবর্তনের কারণেই এসমস্ত ঘটনা ঘটছে। জবর দখলকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা না নেয়া হলে এভাবে আরো অনেকেই তাদের হয়রানির শিকার হবে।
বাঁধা প্রদানকারী মনির মিয়া বলেন, হেকিম মেম্বার যে জমি চাষ করত সেখানে আমাদেরও অংশ রয়েছে। তাই বাঁধা দিয়েছি।
বিশ্বম্ভরপুর থানার এসআই জসিম উদ্দিন বলেন, অভিযোগ পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। জমি সংক্রান্ত বিষয়ে বিজ্ঞ আদালত আইনগত ব্যবস্থা নেন। তবে স্থানীয় ভাবে উভয় পক্ষক্ষে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করছি। তারা যদি আমার ডাকে সাড়া না দেয় তাহলে আমি আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে ফেলবো।