মোহাম্মদ শাহাদাত আলম অন্তর : এক ক্রীড়াপ্রেমী পরিবারের সন্তান। বাবাসহ ৫ ভাইয়ের সবাই ছিল ক্রীড়াপ্রেমী। ছোট বেলা থেকেই খেলা-ধূলায় যেমন আসক্ত ছিলেন তেমনি সব কিছুকে ছাপিয়ে যেখানেই ফুটবল সেখানেই সোহাগের উপস্থিতি ছিল। বাড়ি কুমিল্লার লালমাই উপজেলার দত্তপুর গ্রামে হলেও শৈশব, কৈশোর কেটেছে বিখ্যাত ভৈরব রেলওয়ে জংশনে। পাশাপাশি ভাইদের অবস্থান ঢাকায় হওয়ায় একটা উল্লেখযোগ্য সময় বা প্রতিনিয়ত ঢাকার সাথে যোগাযোগ ছিল। শিক্ষকতায় কর্মজীবন শেষ হলেও আপদমস্তক তিনি ছিলেন ক্রীড়া পাগল মানুষ। যেখানে খেলা সেখানেই তার সরব উপস্থিতি। ফলে বলা চলে, কৈশোর থেকেই তিনি মাঠ পাগল দর্শক। ছোট বেলায় স্কুল জীবনে খেলা-ধূলায় সময় কাটালেও তার খেলা দেখা, খেলোয়ারদের সাথে পরিচয় হওয়া আর সবশেষ খেলোয়ারদের অটোগ্রাফ সংগ্রহ তার জীবনের নেশা হয়ে উঠে। আর তাইতো দিনে দিনে তার বয়সের সাথে পাল্লা দিয়ে অটোগ্রাফ সংগ্রহের বয়স ঠেকেছে প্রায় চার যুগে। বয়স প্রায় ৬২ হলেও অটোগ্রাফ শিকারের বয়স ৪৫/৪৬ বছর। তার সংগ্রহের তালিকায় অন্যতম সেরা সংগ্রহ স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের ক্যাপ্টেন জাকারিয়া পিন্টু, সালাহউদ্দিন, প্রতাপ শঙ্কর হাজরাসহ ৪৫ খেরোয়াড়, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের আধিকাংশের অটোগ্রাফ। বিগত শতাব্দির ’৭০ এর দশক থেকে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত এনায়েত, চুন্নু, হেলাল,বাদল, আবুল, কোহিনুর,মহসিন, মানিক, অলোক, জনি, মোসাব্বের, কানন, সাব্বির, নকিব, রূপু, হাসান আল মামুনসাফজয়ী ফুটবলের গোলকিপার বিপ্লব, নারী ফুটবলার তহুরা, ঋতুপর্ণা চাকমা, নেপালের বিখ্যাত গনেশ থাপা,কৃষ্ণ থাপা, শ্রীলংকার প্রেমলাল, পাকির আলী,হাল আমলের জামাল ভূইয়া, কিউবা মিচেল, মিঠু, সোলেমান কিং, জাতীয় টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়ান কামরুনন্নাহার ডানা, জোবেদা রহমান লিনু, দাবার জীবন্ত কিংবদন্তী রানী হামিদ, ক্রীকেটার মেহেদি হাসান মিরাজ, তাসকিন, দেশের সর্ব কনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক গ্রান্ড মাষ্টার মনন রেজা, দেশের এমন কোন তারকা নেই যার অটোগ্রাফ নেই এই শিকারীর কাছে। বাদ যায়নি ফুটবলের বাইরে হকি খেলোয়ার জুম্মন, রামা লুসাই, রাসেল মাহমুদ জিমি, কলমওয়েলথ গেমস্ স্বর্ণ জয়ী সুটার আসীফ, শুটার সাবরিনা সুলতানা, ক্রীকেট কোচ সালাহউদ্দিনসহ অন্যান্য সেরা অবদান রাখা স্ব স্ব ক্ষেত্রের ক্রীড়াবিদরাও। তিনি শুধু ছবি আর অটোগ্রাফ নিয়েই ক্ষান্ত হননি। সেই সব ছবি ও স্বাক্ষর লেমিনেটিং করে সংগ্রহশালা গড়ে তুলেছেন। খেলোয়ারদের সাথে ছবি তোলা, অটোগ্রাফ শিকারছাড়াও এই ক্রীড়াপ্রেমীর অন্যতম পছন্দের তালিকায় এক সময় জায়গা করে নিয়েনিল ক্রীড়া জগত নামের একটি অধুনালুপ্ত ক্রীড়া ম্যাগাজিন।
এছাড়াও তার পছন্দের খেলা-ধূলার সংবাদ যে পত্রিকায় ছাপা হতো সেই পত্রিকাও তিনি কিনে নিতেন,এখনো কিনেন। পরবর্তীতে সে সমস্ত খেলার সংবাদও লেমিনেটিং করতেন। বয়সের ভারে কিছুটা ক্লান্ত হলেও স্কুল জীবন থেকেই ঢাকা,কুমিল্লা স্টেডিয়ামে ভালো কোন খেলা মানেই তার উপস্থিতি নিশ্চিত ছিল। এখন ঢাকার বাইরে দেশের বিভিন্ন ষ্টেডিয়ামে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হওয়ায় অনেকটা খুশি এই ক্রীড়া প্রেমী। সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লা ষ্টেডিয়াম মাঠে অনুষ্ঠিত প্রতিটি খেলা তিনি স্ব-শরীরে উপস্থিত থেকে দেখেন। তার সংগ্রহশালা দেখতে অনেকেই তার বাড়িতে ভীড় করায় তিনি অভিভূত। অবসরে এসব দেখে সময় কাটানো সোহাগের ইচ্ছা আগামীতে এই সংগ্রহশালা কে যাদুঘরে রূপান্তরীত করা। পরিবারের স্ত্রী সন্তান সকলেই তার এই কাজকে উৎসাহিত করার কথা জানিয়ে এই সংগ্রহাক আরো বলেন,পৃথিবীতে ব্রাজিল,আর্জেন্টিনার পর বাংলাদেশে ফুটবল উন্মাদনা সর্বাধিক। তার আশা একদিন এদেশের ফুটবল হয়তো এই উপমহাদেশের গন্ডি পেরিয়ে এশিয়ার ফুটবলে জায়গা করে নিবে। আর সাম্প্রতিক সময়ে হামজা,জামাল ভূইয়াদের উপস্থিতি তার সেই আখাঙ্কাকে আরো বাস্তবমুখী করে তুলেছে বলে জানান এই প্রতিবেদককে।