মাজেদুল ইসলাম আকাশ, পঞ্চগড় প্রতিনিধি : ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাংবাদিক কোনো তথ্য চাইলে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠিয়ে দিন।’ ফেসবুকে এমন মন্তব্য করেছেন পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে কর্মরত সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রাশেদ সরকার। শনিবার ২২ আগস্ট নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি এ পোস্ট দেন। মন্তব্যটি পোস্ট করার কয়েক ঘণ্টা পর সেটি ডিলিট করে দেওয়া হয়।
তার এই মন্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়ম বা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সাংবাদিকরা সরাসরি বিদ্যালয়ে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন কি না। কারণ বিদ্যালয়ের উন্নয়ন বাবদ স্লিপের অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম, স্কুল ফিডিং বা মিড-ডে মিল কর্মসূচিতে অনিয়ম, নির্ধারিত সময়ের আগে বিদ্যালয় ছুটি, শিক্ষকদের কর্মস্থলে অনুপস্থিতিসহ বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীৎ সাহা বলেন, “বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। সরকারি এমন কোনো নির্দেশনা আমার জানা মতে নেই। বিষয়টি লিখিতভাবে সরকারের দৃষ্টিতে আনা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ জেলা শিক্ষা অফিসকেও বিষয়টি জানানো হবে।”
রংপুর বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, “এমন কোনো নির্দেশনা নেই। বিষয়টি আমি উপপরিচালককে জানাব।”
তবে নিজের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রাশেদ সরকার বলেন, “সাংবাদিকদের মধ্যে যারা ভদ্র ও পেশাদার, তারা সাধারণত এভাবে বিদ্যালয়ে গিয়ে পরিস্থিতি তৈরি করেন না। তবে ইদানীং সাংবাদিক পরিচয়ে কিছু ব্যক্তি বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকদের, বিশেষ করে নারী শিক্ষকদের, অপ্রস্তুত অবস্থায় ছবি তুলছেন, যা বিব্রতকর।”
তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লুকানোর মতো তেমন কোনো তথ্য নেই। প্রয়োজনীয় তথ্য আমাদের অফিসেও রয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অনেক সময় সামান্য বিষয়েও শঙ্কিত হয়ে পড়েন। প্রধান শিক্ষক পদায়ন হলে এ ধরনের সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করছি।”
রাশেদ সরকার বলেন, “তবে কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে আমরা সাংবাদিকদের তা খোঁজখবর নিয়ে যাচাই করার জন্য উৎসাহিত করি।”
স্থানীয় সাংবাদিক ও দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি হরিশ চন্দ্র বলেন, কোনো বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সরেজমিনে গিয়ে তা যাচাই করা প্রয়োজন হতে পারে। সেক্ষেত্রে সাংবাদিকদের বিদ্যালয়ে না গিয়ে শুধু শিক্ষা অফিস থেকে তথ্য নেওয়ার পরামর্শ কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অনিয়মের অভিযোগ থাকলে বিদ্যালয়ে গিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি দেখা, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সাংবাদিকদের অনুসন্ধানের অংশ।
তবে সাংবাদিকতার নীতি বিরুদ্ধ কাজ যেন কেউ না করেন সেই বিষয়েও পরামর্শ দেন তিনি।
পঞ্চগড় জেলার জ্যেষ্ঠ গণমাধ্যমকর্মী আমির খসরু লাভলু দৈনিক কালবেলা কে বলেন, একজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা এমন কোন নির্দেশনা দিতে পারেন না। গণমাধ্যম কর্মী মাঠ পর্যায়ে না গিয়ে শিক্ষা অফিসে বসে তথ্য আদান প্রদান করলে ওই বিদ্যালয়ের প্রকৃত চিত্র না জেনে শুধু কাগজে কলমে রিপোর্ট তৈরি করা হবে। ওই শিক্ষা অফিসার কোন উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে এমন মন্তব্য করেছেন কিনা সেটা ক্ষতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছি।