মো আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে জনউদ্যোগ।
বুধবার সকালে জেলা সংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরিতে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সুনামগঞ্জের প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষের একমাত্র চিকিৎসার জায়গা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল। প্রতিদিন এই হাসপাতালে প্রায় দেড় হাজার মানুষ চিকিৎসা নেয়ার জন্য আসেন। জনবল ঘাটতি, অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের কারণে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এই জেলার মানুষ। এই হাসপাতালে ৬৬ জন ডাক্তারের পদ থাকলেও রয়েছেন মাত্র ২৯ জন। যার ফলে জেলাবাসী সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রায় আড়াই কোটি টাকার ওষধ সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের সরকারী গোডাউনে থেকে নষ্ট হয়েছে। পরবর্তীতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিলো। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এখন পর্যন্ত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনটি কোন গণমাধ্যম কিংবা প্রকাশ্যে পায়নি। জনগণ এই বিষয়টি জানার অধিকার রাখে। তাই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার স্বার্থে বিষয়টি প্রকাশ করতে কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়।
এছাড়াও কার্ডিওলজি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ ও বিভাগের কার্যক্রম চালু করা, চিকিৎসক নার্সদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দালালের দৌরাত্ম বন্ধ করা, সেন্ট্রাল অক্সিজেন চালু করা, জরুরী রোগীদের জন্য সরকারী এম্বুলেন্সের সংখ্যা বাড়িয়ে পর্যাপ্ত ড্রাইভার নিয়োগ দেয়া, প্রয়োজনীয় তথ্য ও ফি সম্বলিত তথ্য বোর্ড/ সিটিজেন চার্টার, ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড ও হেল্প ডেস্ক স্থাপন, চিকিৎসক ও নার্সদের রোগীদের সঙ্গে মার্জিত আচরণ, বাথরুম, ফ্লোর এবং ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন দ্বিগুণ রোগী ভর্তি থেকে খাবার পায়। কিন্তু ঠিকাদার বিল উত্তোলন করে ২৫০ জন রোগীর। দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগী ভর্তি থেকে খাবার খেলে কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত বিল বরাদ্দ দেন। একমাত্র নিয়মের বাইরে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল। গত সপ্তাহে ৫১৯ জন রোগীকে খাবার দেয়া পরেও রানিং বিল দেয়া হচ্ছে ২৫০ জনের। এই বৈষম্য দূরীকরণে কর্তৃক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন ঠিকাদার।
সংবাদ সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন সুনামগঞ্জ জনউদ্যোগের আহ্বায়ক রমেন্দ্র কুমার দে মিন্টু। সংগঠনের সদস্য সুখেন্দু সেন, সচিব সাইদুর রহমান আসাদসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্টনিক মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।