তৌফিকুর রহমান তাহের, বিশেষ প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার হাওরপাড়ের দুর্গম অঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চরম শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় মাত্র একজন শিক্ষককে একাধারে দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা এবং প্রায় দুই শত শিক্ষার্থীর পাঠদান সামলাতে গিয়ে চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পড়াশোনা।
শাল্লা উপজেলার মীর্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় চরম শিক্ষক সংকটের এই চিত্র। মাত্র একজন নিয়মিত শিক্ষক নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে বিদ্যালয়টির কার্যক্রম। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লোকেশ চন্দ্র দাস তাঁর কষ্টের কথা তুলে ধরে বলেন,
মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে প্রায় দু’শ শিক্ষার্থী সামলানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। জুয়েল রায় নামের একজন শিক্ষক আমার স্কুলে ডেপুটেশনে আছেন। ঝড়-বাদলের দিনেও আমি কোনোদিন স্কুলে আসতে মিস করি না, কিন্তু দাপ্তরিক কাজের চাপ ও শিক্ষার্থী সংখ্যার তুলনায় আমরা অসহায়।”
বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে মারাত্মক উদ্বেগে রয়েছেন অভিভাবকরাও। এক বিদ্যুৎসাহী অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি প্রায় দিনই দেখি প্রধান শিক্ষক অফিসের কাজ ও স্কুলের বিভিন্ন ব্যস্ততায় থাকেন। একা একজন মানুষের পক্ষে ক্লাস নেয়া আর বাচ্চাদের সামলানো কিছুতেই সম্ভব হয়ে উঠছে না।”
স্থানীয়দের মতে, বিদ্যালয়গুলোতে সরকারি টিফিন ব্যবস্থা চালু থাকায় শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ও সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে শিক্ষার্থী বাড়লেও সে অনুপাতে শিক্ষক বাড়েনি। কেবল মীর্জাপুর নয়—উপজেলার আশপাশের ইয়ারাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সোনাকানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও হুবহু একই চিত্র দেখা গেছে।
এ বিষয়ে শাল্লা উপজেলা শিক্ষা অফিসার পরিমল চন্দ্র ঘোষ শিক্ষক সংকটের সত্যতা স্বীকার করে বলেন,
শিক্ষক সংকটের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। উপজেলার অনেকগুলো বিদ্যালয়েই বর্তমানে এমন সংকট দেখা যাচ্ছে। আমরা দ্রুত এই শিক্ষক সংকট সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
হাওরপাড়ের এই বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে জরুরি ভিত্তিতে নতুন শিক্ষক নিয়োগ ও ডেপুটেশন মুক্ত করে স্থায়ী পদায়নের জোরালো দাবি জানিয়েছেন শাল্লার অভিভাবক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।