তৌফিকুর রহমান তাহের,বিশেষ প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় দুই শিশু সন্তানসহ বাবার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর মোড় ঘটেছে। নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন পর বাড়ি ফিরে বানোয়াট গল্প বললেও, শেষ পর্যন্ত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নিজের দুই নিষ্পাপ সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন ঘাতক বাবা কামরুল ইসলাম।
উপজেলার পেরুয়া (মধুপুর) গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ফেরিওয়ালা কামরুল ইসলাম গত সপ্তাহে তাঁর দুই শিশু সন্তান মোহাদ্দেস (৭) ও তুলনা আক্তারকে (৪) নিয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হন। কামরুলের কাছে মোবাইল ফোন না থাকায় কোনো যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। সন্তানদের হারিয়ে মা আফরোজা বেগম দিশেহারা হয়ে পড়েন এবং এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়।
গত সোমবার রাত ১১টার দিকে কামরুল একাই বাড়ি ফিরে আসেন। পরদিন সকালে সন্তানদের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি একটি বানানো ও অবান্তর কাহিনী বলেন। তাঁর সেই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে সর্বসাধারণের মনে ঘোর সন্দেহ দানা বাঁধে।
ঘটনার সত্যতা উন্মোচনে ৪ নম্বর চরনারচর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান এবং পেরুয়া গ্রামের বিশিষ্ট মুরুব্বিদের সমন্বয়ে গঠিত সালিশি বোর্ড কামরুলকে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। চাপের মুখে কামরুল স্বীকার করেন যে তিনি নিজেই তাঁর দুই সন্তানকে হত্যা করেছেন।
খবর পেয়ে দিরাই থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কামরুলকে আটক করে। দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত কামরুল স্বীকার করেছেন যে, প্রতিনিয়ত পারিবারিক কলহ এবং দুই শিশুর নিজেদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটির কারণে সংসারে অশান্তি লেগে থাকত। সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি নিজ হাতে দুই সন্তানকে হত্যা করেছেন।
ঘটনার সঠিক রহস্য উদঘাটন এবং শিশুদের মরদেহ উদ্ধারে পুলিশি অভিযান ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।