বরগুনা প্রতিনিধি : বরগুনা আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কলাগাছিয়া বাজার সংলগ্ন ( মা ব্রিকস) ইট ভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায়, বিপন্ন হচ্ছে জনজীবন, হুমকিতে পরিবেশ।
শতাধিক পরিবারের স্বপ্ন পুরে ছাই! স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে বৃদ্ধ থেকে হাজারো শিশু! অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়রা বাঁধা দিলে ভাটা কর্তৃপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় বিভিন্ন ভয় ভীতি ও হুমকির স্বীকার হয়েছেন অনেকে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, “একটি কিংবা দুটি নয় এই ইটভাটার মাত্র একশত গজের সীমানার মধ্যে রয়েছে ইটভাটার পূর্ব দিকে কলাগাছিয়া হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পশ্চিম দিকে রয়েছে পূর্বক কলাগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পূর্ব দিকে রয়েছে আব্দুল গনি দাখিল মাদ্রাসা দক্ষিণ-পূর্ব দিকে রয়েছে কাছেম গাজী কওমি মাদ্রাসা ও আউয়াল নূরানী মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান!
শুধু তাই নয় আবাসিক এলাকায় দুই শতাধিক পরিবার বসবাস করছেন প্রতিনিয়ত ইট ভাটার কালো ধোঁয়ার সাথে লড়াই করে।
এছাড়া প্রতিদিন ভাটার কালো ধোঁয়া আর তীব্র শব্দে বিঘ্নিত হচ্ছে কোমলমতি শিশুদের লেখাপড়া। ক্লাসরুমে বসে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেয়ার উপায়টুকুও হারিয়েছে এই শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার এমন আলো ছড়ানো পরিবেশকে প্রতিনিয়ত গ্রাস করছে ভাটার কালো অন্ধকার শুধু শিক্ষার ক্ষতিই নয়, এই এলাকার ঘরে ঘরে এখন বাড়ছে শ্বাসকষ্ট তীব্র স্বাস্থ্যঝুঁকি। ভাটার বিষাক্ত সালফার-ডাই-অক্সাইড আর কার্বন মনোক্সাইডের কারণে শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি ও চর্মরোগসহ নানাবিধ জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের অবস্থা সবচেয়ে করুণ।”
ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাস কীভাবে একটি হাসিখুশি পরিবার ও আয়ের উৎস ধ্বংস করে দিতে পারে, তার জলজ্যান্ত প্রমাণ এই বাগানটি। ভাটার বিষাক্ত গ্যাসের আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে আম, জাম, কাঁঠাল আর সুপারি গাছের সবুজ পাতা।”
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিবাবক ইদ্রিস কাজি বলেন,এই ভাটা দিয়া আমাদের রাস্তা ঘাটে ধুলাবালির সমস্যার শেষ নাই,পোলাপান স্কুলে যাইতে পারেনা।রাস্তা ভাঙার কারনে অটো চলেনা।
মটরসাইকেল চালক কালাম মল্লুিক বলেন,ব্রিক ফিল্ড হওয়ার পর রাস্তা খারাপ হয়ে গেছে। আমরা রেন্টে কারে গাড়ি চালাই। চলাচল করতে সমস্যা হয়।
ভুক্তভোগী মনির প্যাদা বলেন আমার এই বাগানে আম গাছ, জাম গাছ, কাঁঠাল গাছ, সুপারি ও নারিকেল গাছসহ কয়েকশত গাছ আছে। কিন্তু ইটভাটার কালো ধোয়ায় সব পুড়ে ধ্বংসের পথে।তাছাড়া ইটভাটার কালো ধোয়ায় আক্রান্ত হয়ে আমার বাবা শ্বাসকষ্টে এখন ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। প্রশাসনের কাছে দাবী ইটভাটা অপসারন করে আমাদের বাঁচতে দিন।
সরকারি “আইন অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা লোকালয়ের এক কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু ক্ষমতার দাপট আর প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে, মাত্র ১০০ গজের ভেতর গড়ে উঠেছে এই বিষাক্ত ইটভাটা। যেখানে প্রতিদিন পুড়ছে পরিবেশ, বিপন্ন হচ্ছে শত শত কোমলমতি শিশুর ভবিষ্যৎ।”
পরিবেশগত ক্ষতির বিষয়টা স্বীকার করে মা ব্রিকসের পরিচালক মো:মন্টু মিয়া বলেন ,ইটভাটা আমরা ভাড়ায় চালাই, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র আছে, তবে হালনাগাদ করা হয়নি। ইটভাটার চুল্লি ৬০-৬৫ ফুট উচ্চতা থাকায় আশেপাশের এলাকায় ধোয়ায় ক্ষতি হচ্ছে।
গুলিশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মো:ফারুক হোসেন আকন বলেন, ইটভাটার কারনে বাজারের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। মাদ্রাসা, প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে।রাস্তা মেরামত করলেও থাকেনা বড় বড় ট্রলিতে মাটি আর ইট টানায় রাস্তার ব্যপক ক্ষতি হচ্ছে।
অবাক করার বিষয় হলো! এরকম আবাসিক এলাকায় ১শ গজের মধ্যে ইটভাটা স্থাপনের কিভাবে পরবিশের ছাড়পত্র পেলো?
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরগুনা জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হায়াত মাহমুদ রকিব বলেন,বিষয়টি জেনেছি সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বরগুনা জেলা প্রশাসক মিছ তাসলিমা আক্তার জানান, বিষয়টি ইনভেস্টিগেট করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।