পঞ্চগড় প্রতিনিধি : পঞ্চগড়ে চাঞ্চল্যকর মামী (৪০) ও ভাগিনীকে (১৮) ধর্ষণের অভিযোগে তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার দেবীগঞ্জ থানায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলাটি দায়ের করা হয়।
মামলার আসামিরা হলেন, দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নের অমরখানা এলাকার মো. পারভেজ (২০), মো. রাসেল ইসলাম (২২) ও বিশ্বজিৎ (২১)।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ মে রাতে দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নের অমরখানা এলাকায় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে মামী ও ভাগিনী বাড়িতে ফিরে আসেন। বাড়িতে তালা লাগানো থাকায় তারা অন্যত্র যাওয়ার জন্য একটি ভ্যানের সন্ধান করছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এসময় এক ব্যক্তি ভ্যান এনে দেয়ার কথা বলে চলে যায়। পরে সে একটি ব্যাটারি চালিত ভ্যানে কয়েকজনকে নিয়ে ফিরে আসে। এরপর ভাগিনীকে জোরপূর্বক একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। একই সময়ে মামীকে জোরপূর্বক ব্যাটারিচালিত ভ্যানে তুলে নিয়ে করতোয়া নদীর পাড়ে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ওই দুই নারী অসুস্থ হয়ে পরলে তাদের প্রথমে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।
ভুক্তভোগী ভাগ্নীর বাবা বলেন, আমার মেয়ে ও তার মামীর সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। আমি এই ঘটনার ন্যায়বিচার চাই। যারা এ ধরনের জঘন্য অপরাধ করেছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।
পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ও আধুনিক সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা মিজানুর রহমান বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে হাসাপাতালে ভর্তি হওয়া ভূক্তভোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে ধর্ষণের বিষয়ে।
এ বিষয়ে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) ফরহাদ হোসেন বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কাজ করছে।