নিজস্ব প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ : প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সুনামগঞ্জের হাওর পর্যটনে যুক্ত হচ্ছে নতুন মাত্রা। আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবং পর্যটকদের নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ নতুন ও আধুনিক রূপে যাত্রা শুরু করছে ঐতিহ্যবাহী ‘নিঝুম নৌ পরিবহন’।
হাওর অঞ্চলের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও নিঝুম নৌ পরিবহনের প্রোপাইটার জামাল মিয়া (মধ্যনগর, সুনামগঞ্জ) এই আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা যাতে যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি ভুলে প্রকৃতির মাঝে প্রিমিয়াম এক অনুভূতি পান, সেই লক্ষ্যেই নৌ পরিবহনটিকে নতুন আঙ্গিকে সাজানো হয়েছে।
হাওরের বিশাল জলরাশির বুক চিরে নিঝুম নৌ পরিবহন পর্যটকদের নিয়ে যাবে প্রকৃতির একদম কাছাকাছি। এই নৌ পরিবহনের মাধ্যমে পর্যটকরা সুনামগঞ্জের বিশ্বখ্যাত ও আকর্ষণীয় সব পর্যটন স্পট এক ট্যুরেই ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন। স্পটগুলোর মধ্যে রয়েছে:
টাঙ্গুয়ার হাওর ও ওয়াচ টাওয়ার: জীববৈচিত্র্যের এক অনন্য স্বর্গরাজ্য, যেখানে ওয়াচ টাওয়ার থেকে পুরো হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।
নীলাদ্রি লেক (শহীদ সিরাজ লেক): সবুজে ঘেরা পাহাড় আর নীল জলের মায়াবী মিশেল, যাকে বলা হয় বাংলার কাশ্মীর।
শিমুল বাগান: ফাল্গুনের রক্তিম আভা ছড়ানো দেশের সবচেয়ে বড় দৃষ্টিনন্দন শিমুল বাগান।
বারিক্কা টিলা ও যাদুকাটা নদী: পাহাড়, নদী আর বালুচরের এক অপূর্ব ত্রিমাত্রিক রূপ।
লাকমা ছড়া: মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত পাথুরে ও শীতল জলের এক শান্তিময় ঝরনাধারা।
নিঝুম নৌ পরিবহনের প্রোপাইটার জামাল মিয়া আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু ব্যবসা নয়, সুনামগঞ্জের পর্যটন শিল্পকে দেশ ও বিদেশের মানুষের কাছে আরও আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরা। পর্যটকদের শতভাগ নিরাপত্তা, উন্নত মানের খাবার, দক্ষ চালক এবং আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ‘নিঝুম নৌ পরিবহন’ এখন প্রস্তুত। আমরা মধ্যনগর তথা পুরো সুনামগঞ্জবাসীর পক্ষ থেকে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে উন্মুখ হয়ে আছি।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিঝুম নৌ পরিবহনের এই আধুনিক রূপ সুনামগঞ্জের পর্যটন খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে এবং পর্যটকদের ভ্রমণকে আরও আনন্দময় ও স্মরণীয় করে রাখবে।