সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফ্যাসিস্ট নজরুল ইসলাম রহস্যজনক কারণে নিয়মিত থানা এলাকায় প্রকাশ্যে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং নিরবে ব্যবসা বানিজ্য চালিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ জুলাই রাত আনুমানিক ১১টায় সুনামগঞ্জ সদর থানার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের চেকনিখাড়া ব্রিজের ওপর মিছিল করে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলাম।
এ ঘটনায় রবিবার রাতে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের রাবারবাড়ি গ্রামের হাফিজ ইয়াকুব আলীর ছেলে বিএনপি নেতা বর্তমান মেম্বার মো নিজাম উদ্দিন। যার মামলা নম্বর: ০১।
স্থানীয় একাধিক বিএনপি ও যুবদল নেতা বলেন, দীর্ঘ প্রায় ১৬/১৭ বছর যাবৎ ডেভিল হান্ট মামলার আসামি এবং সম্প্রতি সন্ত্রাস বিরোধী মামলার ১০ নম্বর আসামি মো নজরুল ইসলাম এলাকায় ত্র্যাসের রাজত্ব করে গেছেন। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দ আত্মসাত সহ লুটপাট করেছেন।
৫ আগষ্ট ফ্যাসিস্ট সরকার পতন হওয়ার পরও তারা বর্তমানে যুবলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে রক্ত চুশা চক্রবর্তী সুদের ব্যবসা দেদারসে চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে তারা প্রত্যেহ হাট বাজারের বিভিন্ন হোটেল রেস্টুরেন্ট ও চায়ের দোকানে বসে ফ্যাসিস্ট খুনি শেখ হাসিনা দেশের মাটিতে ফিরে আসবেন বলে নেতাকর্মীদের মনে সাহস যোগাচ্ছেন। আমাদের নেত্রী পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করেননি। তিনি আবারও আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন।
মঈনপুর গ্রামের বাসিন্দা বিএনপি নেতা জানান, আওয়ামীলীগ নেতা মো নজরুল ইসলাম আমাকে একটি গভীর নলকূপ দেয়ার কথা বলে দীর্ঘদিন হয়রানি করে শেষ পর্যন্ত দেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হালুয়ারঘাট বাজারের এক ব্যবসায়ি জানান, অর্থের অভাবে আমার ঘর খানা মেরামত করতে পারছি না। পরে নিরুপায় হয়ে নজরুল ইসলামের কাছে যাই ঢেউ টিনের জন্য। তিনি আমাকে পিআইও অফিস থেকে টিন দেবেন বলে অনেক দিন হাটিয়েছেন। দেই দিচ্ছি বলে শুধু সময় ক্ষেপন করেছেন শেষ পর্যন্ত আর পাইনি।
সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো রতন শেখ বলেন,গত ৩১ জুলাই সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের সেখনিকাড়া ব্রীজের উপরে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীরা মিছিল করার ঘটনায় ৪৮ জনকে অভিযুক্ত করে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে।