রোকশানা নীলা : আজ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ভিক্টোরিয়া কলেজ প্রাঙ্গণ পরিণত হয়েছিল উৎসবমুখর মিলনমেলায়। নববর্ষকে বরণ করতে সকাল থেকেই কলেজ ক্যাম্পাসে জমে ওঠে নানা আয়োজন, অংশগ্রহণ করেন জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সম্মানিত ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক (ডিসি)।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি), কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক) প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
নববর্ষ উপলক্ষে কলেজ প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, র্যালি এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা অভিনব উপস্থাপনায় অংশগ্রহণ করে। তারা বনিল (বৈশাখী) সাজে সজ্জিত হয়ে রঙিন পোশাকে শোভাযাত্রায় অংশ নেয়, যা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। তারা নানা রঙের পোশাক, মুখোশ এবং ঐতিহ্যবাহী সাজে নিজেদের উপস্থাপন করে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়। অনেকেই গ্রামীণ সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে, যা পুরো পরিবেশকে করে তোলে আরও আনন্দমুখর ও প্রাণবন্ত।
অনুষ্ঠানে বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্য ও গুরুত্ব তুলে ধরেন। পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ শুধু একটি উৎসব নয়, এটি আমাদের জাতীয় পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ, যেখানে শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক সবাই আনন্দে মেতে ওঠে। নববর্ষকে কেন্দ্র করে এমন উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেয় এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সব মিলিয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে আয়োজিত পহেলা বৈশাখের এই অনুষ্ঠানটি ছিল আনন্দ, সংস্কৃতি ও সচেতনতার এক অনন্য সমন্বয়, যা নতুন বছরকে বরণ করার পাশাপাশি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তাও পৌঁছে দিয়েছে।