শিরোনাম :
“সম্মিলিত নন এমপিও ঐক্য পরিষদ’’ এর উদ্যোগে শিক্ষক কর্মচারীদের মানববন্ধন  বোদায় বাসা বাড়িতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৩ শ লিটার পেট্রোল জব্দ; ২ জনের কারাদণ্ড ভিডিও ধারণ করতে বাধা দেয়ায় জেলা প্রশাসকের সভা বর্জন করল সাংবাদিকরা  তেঁতুলিয়ায় কৃষককে বিনামূল্য গ্রীষ্মকালীন মুগডাল, আউশ ধান তিল বীজ বিতরণ জীবনে এগুতে চাইলে দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই : কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান কুমিল্লায় হাম-রুবেলায় আরও এক শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে শয্যা সংকট কুমিল্লা চান্দিনায় যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খুঁটিতে ধাক্কায় পথচারী নিহত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বাস্তহারা দলের রূপনগর থানা আহবায়ক কমিটির সম্মেলন বালু ধ্বসে শাহ আলমের মৃত্যু : বিল্লালকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা  দুমকিতে এডিএস এর উদ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থীদের পদক প্রদান
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪০ পূর্বাহ্ন

স্বর্ণ পদক পেলেন কবি ইলোরা সোমা শিশু সাহিত্যে

Reporter Name / ১৭২ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

মো: মফিদুল ইসলাম সরকার, রংপুর প্রতিনিধি : বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি শুধু সামাজিক স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্যই নয়, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ– সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ অতীশ দীপঙ্কর গবেষণা পরিষদ আয়োজিত অতীশ দীপঙ্কর স্বর্ণপদক ২০২৪ প্রদান ও সামপ্রদায়িক সম্প্রীতি আমাদের ঐতিহ্য শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে একথা বলেন, বাংলাদেশ সরকারের সাবেক তথ্যসচিব

সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ। তিনি আরও বলেন, আমরা জানি বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ, ও জাতি-গোষ্ঠীর মানুষ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বসবাস করে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সম্পদ, যা দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে ভূমিকা পালন করে আসছে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের পরিচালক কবি আবদুল মাজেদ, বাংলা একাডেমির উপ-পরিচালক ড. সাহেদ মন্তাজ, খ্যাতিমান সাংবাদিক এডভোকেট দেবাশীষ দেব, এম এ মান্নান মনির, কবি বিমল সাহা।

আলোচনা করেন দৈনিক বাংলার পৃথিবীর সম্পাদক ও প্রকাশক মেহেরুন নিছা মেহেরিন। তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হলে শুধু সরকার সামাজিক সংগঠন ও নাগরিকদের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, গণমাধ্যমের ভূমিকাও এখানে অপরিহার্য। গণমাধ্যমের দায়িত্ব হলো প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা প্রচার করা। যখনই কোনো সাম্প্রদায়িক সমস্যা দেখা দেয়, তখন গণমাধ্যমের ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা সমাজকে শান্ত ও স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে। বাংলাদেশের সংবিধান ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাম্যের প্রতিশ্রুতি দেয়। এখানে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ নানা ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে। তবে কখনো কখনো কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী এই সম্প্রীতি বিনষ্ট করার চেষ্টা করে। তারা বিভিন্ন সময়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বা হানাহানির সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। কিন্তু বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ সবসময় এই ধরনের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে এবং সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করেছে। আমাদের নিজেদের অবস্থান থেকে সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য কাজ করতে হবে। সমাজের প্রতিটি স্তরে এই সম্প্রীতির চর্চা ও প্রসার ঘটাতে হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি একটি চলমান প্রক্রিয়া, যা ক্রমাগত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতা দিয়ে বজায় রাখতে হয়। আমাদের প্রতিদিনের আচরণ ও চিন্তাধারায় এই সম্প্রীতির মানসিকতা ধরে রাখতে হবে। তবেই আমরা একটি সত্যিকার অর্থে মানবিক ও উন্নত সমাজ গড়ে তুলতে পারব, যেখানে সব ধর্ম, বর্ণ, ও সংস্কৃতির মানুষ সমানভাবে সম্মানিত ও নিরাপদ থাকবে।

আমাদের বুঝতে হবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও আমাদের ঐতিহ্য বাংলাদেশের জাতীয় ঐক্যের মেরুদণ্ড। এটি আমাদের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করে এবং একটি শক্তিশালী জাতি হিসেবে আমাদের বিশ্বের সামনে তুলে ধরে। তাই আমাদের সকলের উচিত এই সম্প্রীতির মন্ত্রকে হৃদয়ে ধারণ করে একটি উন্নত, শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতিময় বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য কাজ করা।

অতীশ দীপঙ্কর গবেষণা পরিষদের চেয়ারম্যান কবি গোলাম কাদের বলেন, যখন একটি সমাজে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ একত্রে বসবাস করতে পারে, তখন সেখানকার সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষ একে অপরের কাছ থেকে শিখতে পারে এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক বিনিময় ঘটে, যা সমাজকে আরও বৈচিত্র্যময় ও সৃজনশীল করে তোলে। বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকাগুলোতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চিত্র বিশেষভাবে লক্ষণীয়। গ্রামের মানুষ সাধারণত একে অপরের সুখ-দুঃখের অংশীদার হয়। তারা বিভিন্ন সামাজিক কাজে একত্রিত হয় এবং পরস্পরের পাশে দাঁড়ায়। এই সহযোগিতামূলক মনোভাব গ্রামের মানুষের জীবনে একটি বিশেষ প্রভাব ফেলে এবং তাদের সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে তোলে। শিল্প-সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রভাব সুস্পষ্ট। এটা আমাদের ঐতিহ্য। বাংলাদেশের সাহিত্য, সংগীত, চিত্রকলা ও অন্যান্য শিল্পমাধ্যমে বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রভাব লক্ষণীয়। রবি ঠাকুরের গান, নজরুলের কবিতা কিংবা লালন ফকিরের দোহা- সব কিছুতেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ছোঁয়া রয়েছে। এই সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন শুধু শিল্পীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, সাধারণ মানুষের মাঝেও একটি গভীর সংযোগ তৈরি করে।

অনুষ্ঠানে কয়েকজন গুণীব্যক্তিকে অতীশ দীপঙ্কর স্বর্ণপদক ২০২৪ প্রদান করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা

সম্পাদকীয়

সম্পাদক ও প্রকাশক