কুমিল্লা প্রতিনিধি : দেশের মৎস্য উৎপাদনে কুমিল্লার শক্তিশালী অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে জেলাটিকে মাছ রপ্তানির অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করবে বলে জানিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন। তিনি বলেছেন, কুমিল্লা দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৎস্য উৎপাদনকারী জেলা। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে কুমিল্লা স্থলবন্দর দিয়ে মাছ রপ্তানির বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
শনিবার ১ লা আগস্ট কুমিল্লা সার্কিট হাউজে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অসময়ে বৃষ্টিপাত বন্যা ও খরা হচ্ছে। তাই, আগামী মৌসুমে হাওড় অঞ্চলের কৃষকদের জন্য ১১৮ জাতের নতুন ধানের বীজ সরবরাহের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে ৩০ টন বীজ বিতরণ করা হবে। নতুন উদ্ভাবিত এসব জাতের ধান শীতল আবহাওয়াতেও সহজে অঙ্কুরোদগম করতে সক্ষম হবে। ফলে প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা শীতের কারণে ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কমবে। একই সঙ্গে আকস্মিক বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি মোকাবিলায় কৃষকরা আরও সক্ষম হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, এছাড়া, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি জমিতে লবনাক্ততা ছড়িয়ে পড়ছে। উপকূলীয় এলাকার কৃষকদের জন্য লবণাক্ততা সহনশীল নতুন জাতের ধানের বীজ উদ্ভাবনে সরকার কাজ করছে। এসব জাতের ধান লবণাক্ত পরিবেশেও ভালো ফলন দেবে। এর ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।
মৎস্য খাতের উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেন, কুমিল্লায় মাছ বাজারজাতকরণকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে একটি স্থায়ী মাছের বাজার অথবা ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি মাছ চাষিদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় মাছের রেণু সরবরাহের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, আগামী বছরের মধ্যেই খাল খনন কর্মসূচির শতভাগ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ এবং কৃষিতে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ সম্ভব হবে, যা কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে বীজসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্যাকবলিত এলাকায় গরু ও ছাগলের জন্য সরকারি উদ্যোগে ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়েছে, যাতে প্রাণিসম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা যায়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ রোজি আক্তার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. সামছুল আলম, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুর রহমান মজুমদারসহ কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কুমিল্লা জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর এবং সংস্থার কর্মকর্তারা।