কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের লালমতি গ্রামে অনুষ্ঠিত মাদকবিরোধী শান্তি সমাবেশে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি নেতা মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, “এখন সময় মাদকের মূলোৎপাটন করতে হবে। রক্ষক যদি ভক্ষক হয়, তাহলে সমাজকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করা সম্ভব নয়।”
শনিবার ২০ জুন সন্ধ্যায় আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মনিরুল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন, ফ্যাসিস্ট আমলে বিজয়পুর এলাকা মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি।
তিনি বলেন, “পটপরিবর্তন হলেও মাদক কারবারিদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়া বন্ধ হয়নি। প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এখনও মাদকের রমরমা বাণিজ্য চলছে।”
তিনি বলেন, মাদকের ভয়াবহতা এখন প্রতিটি পরিবারে আঘাত হেনেছে। শিশু-কিশোররাও এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রেহাই পাচ্ছে না।
স্থানীয় জনগণের উদ্যোগে মাদকবিরোধী আন্দোলনের প্রশংসা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “মাদক কারবারি মিলনকে এলাকা থেকে বিতাড়িত করার পর দুই দিনের মাথায় কারা তাকে আবার ফিরিয়ে আনলো? কারা এসব মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে?”
মাদকবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেয়া ব্যক্তিদের গ্রেফতারের সমালোচনা করে তিনি অবিলম্বে গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবি জানান। অন্যথায় আদালত ও রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সমাজ এখন মাদকের বিরুদ্ধে সচেতন হয়ে উঠছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক।
তিনি জানান, পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আসা মাদক দেশের যুবসমাজকে ধ্বংস করছে এবং এর বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সুপার বলেন, “সম্প্রতি আমরা ১ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছি। বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় মাদকবিরোধী অভিযানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত মাসে মাদক উদ্ধারে কুমিল্লা জেলা দেশে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে।”
মাদক কারবারি মিলনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মিলনকে সেদিন কে বাড়িতে নিয়ে এসেছে, তা আমরা জানি। এ বিষয়ে আমাদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ রয়েছে।” তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা দেন, “মিলন যেখানেই থাকুক, তাকে গ্রেফতার করা হবে। যদি তা করতে না পারি, তাহলে আমি চাকরি ছেড়ে দেব।”
পুলিশ সুপার আরও বলেন, “আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি, কেউ অন্যায়ভাবে জেল খাটবে না। বিজয়পুর ইউনিয়নে কোনোভাবেই মাদক ব্যবসা চলতে দেওয়া হবে না। এজন্য জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মো. ফেরদৌস, সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাহিদ চৌধুরী, সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আকতার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক চৌধুরী এবং বিজয়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।