শিরোনাম :
ময়মনসিংহের ভালুকায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কুমিরের খামার পরিদর্শন  তেঁতুলিয়ার মাঝিপাড়া সীমান্তে নারী-শিশুসহ ১৩ জনকে পুশইন চেষ্টা নদী ভাঙনের কবলে সুনামগঞ্জের বাক্ষ্মণগাঁও : ঝুঁকিপূর্ণ ৫০ পরিবারের মানববন্ধন বিপুল পরিমাণ মাদকসহ কারবারি আটক এমইপি গ্রুপের উদ্যোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইলেকট্রিশিয়ানদের মতবিনিময় শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান সরকার কাজ শুরু করেছে : ফরহাদ আজাদ দাউদকান্দিতে পুলিশের পৃথক অভিযানে ডাকাত-চোরসহ গ্রেপ্তার ৯ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা হচ্ছে, সহায়তা দেবে সরকার : কৃষিমন্ত্রী প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে   মন্দির ও মূর্তি ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগ মধ্যনগরে কৃষক তালিকা নিয়ে আপত্তি : সাংবাদিককে ফোনে হুমকির অভিযোগ
শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৯ অপরাহ্ন

নদী ভাঙনের কবলে সুনামগঞ্জের বাক্ষ্মণগাঁও : ঝুঁকিপূর্ণ ৫০ পরিবারের মানববন্ধন

Reporter Name
Update : শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬

মো আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাক্ষ্মণগাঁও সুরমা নদীর পাড় ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা নদী ভাঙ্গনের কবলে ঝুঁকিপূর্ণ ৫০ পরিবারের মানববন্ধন।

আজ শনিবার ১১ জুলাই সকাল সাড়ে ১১ টায় বাক্ষ্মণগাঁওস্থ সুরমা নদীর তীরে দ্রুত বাঁধ নিমার্ণের প্রতিবাদে মানববন্ধন কমসূচী পালিত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত কয়েকদিনের ভারীবর্ষণ ও উজানের ঢলে ৫০ পরিবারের রাত কাটছে আতঙ্কে। টিনের ঘরটার দরজা খুলতেই এখন পানি। গত বছরও যেখানে উঠান ছিল, সেখানে এখন স্রোত। গত কয়েক সপ্তাহের টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে তীব্র হয়েছে ভাঙন। আর সেই ভাঙনের মুখে পড়ে দিশেহারা সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাক্ষ্মণগাঁও গ্রামের প্রায় ৫০টি পরিবার। যেকোনো মুহূর্তে ভিটেমাটি, গৃহপালিত পশু-পাখী নদী গর্ভে তলিয়ে যাবে, এই আতঙ্কে রাতের পর রাত জেগে কাটছে গ্রামবাসীর। শিশু কোলে নিয়ে, বয়স্ক বাবা-মাকে সাথে নিয়ে মানুষগুলো এখন শুধু অপেক্ষা করছেন, কখন প্রশাসন আসবে, কখন বাঁধ হবে।

সরেজমিনে বাক্ষ্মণগাঁও গিয়ে দেখা যায়, নদীর পাড় থেকে মাত্র ১-২ হাত দূরেই বসতঘর। ঢেউয়ের প্রতিটি আছড়ে মাটি খসে পড়ছে। ইতোমধ্যে ভেঙে ভেঙে ৭-৮টি বসতঘরের বারান্দা পর্যন্ত কবলিত হয়ে গাছপালা নদীগর্ভে চলে গেছে। যে বাড়িগুলো টিকে আছে সেগুলোর পিলারও ঝুঁকিপূর্ণ।

গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা হুশিয়ার আলী কাঁপা গলায় বলেন, গত বছরও পাড় থেকে অনেক দূরে ছিলাম। এখন ঘরের দরজা খুললেই নদী। রাতে ঘুমাতে পারি না। পানি একটু বাড়লেই মনে হয় এই বুঝি ঘরসহ সব ভেঙে গেল। ৫০টা পরিবারের কপালে কী আছে আল্লাহই জানে।

একই গ্রামের গৃহবধূ ফাতেমা বেগমের চোখে পানি। তিনি বলেন, ছেলেমেয়েদের নিয়ে কোথায় যাবো বুঝতেছি না। একটা ঘর তুলতে জীবন শেষ। এখন সেটাও যদি নদী খেয়ে ফেলে তাহলে আমরা যাবো কই? সরকার যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয় তাহলে সবাই পথে বসতে হবে। শিশুরা স্কুলে যেতে পারছে না ঠিকমতো। গরু-ছাগল রাখার জায়গা নেই। বিশুদ্ধ পানির সংকটও দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জহুর মিয়া জানান, ভাঙন শুরু হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে মৌখিক ও লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো স্থায়ী বাঁধ কিংবা জিও ব্যাগ ফেলার কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

আমরা ত্রাণ চাই না, আমরা চাই আমাদের ভিটেমাটি বাঁচাতে বাঁধ। প্রতি বছর বর্ষা এসে এভাবে ৭-৮টা বাড়ি চলে যায় নদী গর্ভে এভাবে আর কতদিন।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা মো জাকির হোসেন বলেন, বাক্ষ্মণগাঁওয়ের ভাঙনের খবর আমরা পেয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সিলেটে পাঠিয়েছি। আশা করছি আগামী রবি-সোমবার প্রকল্প অনুমোদন হয়ে আসলে দ্রুত নির্মাণ কাজ শুরু করবো। পাশাপাশি বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাহাদুরপুর ও সলুকাবাদ ইউনিয়নের ধোপাজান নদীর তীরে এরকম আরো দুটি ভাঙনের প্রকল্প আমরা পাঠিয়েছি। সুরমা নদীর এ অংশে ভাঙন নতুন করে তীব্র হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও নদীতে অতিরিক্ত স্রোতের কারণে ক্ষয়ের হার কয়েকগুণ বেড়েছে।

পানি বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন, নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া এবং তীর রক্ষা বাঁধ না থাকায় সুনামগঞ্জের অনেক এলাকায়ই এখন ভাঙন প্রকট আকার ধারণ করেছে। শুধু জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িক সমাধান নয়, দরকার নদী খনন এবং স্থায়ী সিসি ব্লক বাঁধ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নদীভাঙন ঠেকাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বাক্ষণগাঁও গ্রামের অর্ধশতাধিক পরিবার শিগগিরই গৃহহীন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তাদের একটাই দাবি, অবিলম্বে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে তাদের শেষ সম্বলটুকু বাঁচানো হোক।নইলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে আরেকটি গ্রাম, আর ঠিকানা হারাবে ৫০টি পরিবার।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন,জহুর মিয়া, হুসিয়ার আলী, আব্দুর রহমান, মাহমুদ আলী, আশ্বাব আলী, আলকাছ মিয়া,রুহুল আমীন,লসমিন বেগম, খালেদা বেগম, জাহেরা বেগম, আকরাবুননেছা, রেহেনা বেগম,জয়তুননেছা, আপ্তাবানু,কনুমালা, কুলসুমা বেগম, শিল্পি বেগম, ফাতেমা বেগম, রাবেয়া বেগম, খইরুননেছা প্রমুখ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ক্যালেন্ডার

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930