খাদেমুল ইসলাম, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি : পঞ্চগড় জেলায় তেঁতুলিয়া কম খরচে লাভ বেশি হওয়ায় পরীক্ষা মুলক ভাবে পান চাষে ঝুঁকছেন তেঁতুলিয়া চাষি আহমেদ আলী। তিনি পান চাষে সাফল্যও পেয়েছেন । তাই এই উপজেলায় তিনি পরীক্ষা মুলক ভাবে পান চাষ শুরু করেন গত ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, উপজেলার তেঁতুলিয়া এলাকায় চায়ের পাশাশাশি পান চাষ হয়।
এছাড়া চাষের জন্য তেঁতুলিয়া ইউনিয়নও অন্যতম। স্থানীয় হাট বাজারে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত এসব পান বেচাকেনার হয়। অনেকে আবার পানকে ওষধি গাছ হিসেবে ব্যবহার করছেন।
তেঁতুলিয়া মাগুরা গ্রামের মোঃ ইব্রাহীম আলী বলেন, গত ২ বছর থেকে শ্রমিক হিসেবে তিনি ৬ শত টাকায় হাজিরা কাজ করেন। পান চাষে আগে অভিজ্ঞা জানা তাই পরিচর্যাকারী দায়িত্ব পালন করেন। এতে তার ৬ সদস্য পরিবার সংসার চলে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, তেঁতুলিয়া এই উপজেলায় গত ২ বছরে নিজের জমিতে পান চাষ করা হয়েছে।
তেঁতুলিয়া এলাকার পান চাষি আহমেদ আলী
চাষি জানান, পানের বরজে এক প্রকার ফাপপচা রোগ দেখা দেয়। এ থেকে বাঁচাতে পারলে একটি বরজ ২০ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত থাকে। সাধারণ আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে এ রোগটি বেশি দেখা যায়। তবে এ রোগ দমনে ফোরি, এডমা ও কাফডার নামে তিনটি ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও শীতের সময় এক প্রকার বিষাক্ত কুয়াশা পান গাছে লাগলে পান পাতা ঝরে যায়। এতে চাষিরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
পান চাষি বলেন, আমার ১৫ শতক জমির ওপর একটা পানের বরজ আছে, তার বয়স প্রায় ২ বছর হবে। বর্তমানে প্রতি বিড়া পান আকার ভেদে ৬০ থেকে ১০০ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি করতে পারছি। বাজারে চাহিদা থাকায় পুরাতন পানের যে দাম পেয়ে ছিলাম, নতুন পানেরও তেমনি দাম পাচ্ছি।
তেঁতুলিয়া পান চাষি আহমেদ আলী অভিযোগে জানান, তিনি কৃষি কর্মকর্তার সহযোগীতা পাননি। এমনকি সোনালি, ব্যাংক রাজশাহী উন্নত ব্যাংক গুলোতে কোন কৃষিঋণ সুবিধা না পেয়ে নিজের চা বিক্রি জমানো টাকা পান চাষ করেন।
তবে কৃষি বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্ভাবনাময় খাতকে আরো টেকসই করতে সরকারি প্রণোদনা, সহজ ঋণ, রোগবালাই ব্যবস্থাপনা এবং বাজারজাতকরণে সহায়তা জরুরি। কারণ ব্যক্তিগত শ্রমে গড়ে ওঠা পানের বরজ এখন গগকৃষকের কাছে কেবল চাষ নয়- গ্রামীণ অর্থনীতির নতুন আশার নাম।
তেঁতুলিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাবরিনা আফরিন সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেনি।