হাওরপাড়ে থেকে তৌফিকুর রহমান তাহের : দিরাই ও শাল্লা উপজেলার হাওরজুড়ে এখন কৃষকের হাহাকার। চোখের সামনে তলিয়ে যাওয়া কষ্টের ফসল দেখে কৃষকদের মনের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়।
তবে এই দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তেই এক শ্রেণির অসাধু মানুষ অন্যের সম্পদ লোপাটের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অসাধু চক্রের তৎপরতা ও সতর্কতা
স্থানীয় সূত্র জানায়, দুর্যোগ এলেই কিছু সুবিধাবাদী ও অসাধু ‘কাজের লোক’ কায়দা করে মহাজনের ধান লুট করার পাঁয়তারা করে। পানি বাড়ার সুযোগ নিয়ে তারা অন্যের তলিয়ে যাওয়া জমিতে ‘নোঙর’ বা ‘ডোব’ দিয়ে গোপনে ধান তুলে নেয়ার চেষ্টা চালায়। এদের মানবিকতা ও নীতিবোধ বলতে কিছু নেই; বরং কৃষকের কান্নাকে পুঁজি করে কীভাবে ফসল লোপাট করা যায়, তারা সেই চিন্তায় মগ্ন থাকে।
কৃষকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ, এ ধরনের কোনো অসাধু ব্যক্তিকে অন্যের জমিতে নামতে দেবেন না। অন্যের সম্পদ দখল করা কেবল অপরাধ নয়, এটি বড় ধরনের ঝগড়া-ফাসাদ এমনকি মামলা-মোকদ্দমা পর্যন্ত গড়াতে পারে।
মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
লোভী চক্রের বিপরীতে হাওরপাড়ে এখনো সততা টিকে আছে। স্থানীয় ধান মাড়াই শ্রমিক কবির মিয়া মাড়াইকল এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বলেন, আমরা আগের মতোই ধান ভাঙাচ্ছি। ধান বা টাকা বেশি নেব কেন? মানুষের এই বিপদে আমরা শুধু আমাদের ন্যায্য পাওনাটাই চাই। বেশি নিলে আল্লাহ বেজার হবেন।”
এই সংকটে কবির মিয়ার মতো এমন মানবিক চিন্তা সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়া প্রয়োজন। একদিকে যখন অসাধু চক্র লুটপাটের চিন্তায় ব্যস্ত, অন্যদিকে কবির মিয়ার মতো ব্যক্তিদের সততা হাওরপাড়ের কৃষকদের কিছুটা হলেও সান্ত্বনা দিচ্ছে।
হাওরের এই কঠিন সময়ে একদিকে যেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে লড়াই করতে হচ্ছে, অন্যদিকে অসাধু মানুষদের থেকেও সতর্ক থাকতে হবে। সামাজিক শান্তি বজায় রাখতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষ এড়াতে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।