মধ্যনগর প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। পরিদর্শনকালে দুটি বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষককে উপস্থিত পাওয়া যায়নি এবং একটি বিদ্যালয় বন্ধ দেখতে পান তিনি।
জানা যায়, সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল মধ্যনগর ও ধর্মপাশা উপজেলায় চলমান এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে যাওয়ার পথে উপজেলার মোট পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেন। শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষক উপস্থিতি পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবেই তিনি এসব বিদ্যালয়ে যান।
পরিদর্শনের সময় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আবিদনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে কোনো শিক্ষককে উপস্থিত পাওয়া যায়নি। পরে সকাল ৯টা ৪৩ মিনিটে দুগনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেও একই চিত্র দেখতে পান তিনি। বিদ্যালয় দুটি খোলা থাকলেও সেখানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল, কিন্তু শ্রেণিকক্ষে কোনো শিক্ষক না থাকায় পাঠদান কার্যক্রম কার্যত বন্ধ ছিল।
এছাড়াও কায়েত কান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে বিদ্যালয়টি বন্ধ অবস্থায় দেখতে পান সংসদ সদস্য। বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে এমন পরিস্থিতি দেখে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেন।
এ সময় স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, কিছু বিদ্যালয়ে নিয়মিত শিক্ষক উপস্থিতি নিশ্চিত না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তারা বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত তদারকি বাড়ানোর দাবি জানান।
সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দায়িত্বে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই। শিক্ষকরা সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করবেন—এটাই প্রত্যাশা। শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে সকলকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পরে তিনি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে।
মধ্যনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘এমপি স্যার স্কুল পরিদর্শনের সময়ই আমাকে ফোন করেছিলেন। বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। লিখিত জবাবের ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুগনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষিকা মনি রানী রায় বলেন, যে আমরা সময় মত স্কুলে যাওয়ার জন্য নিজেরাই একটা নৌকা কিনছি আমরা প্রতিদিন মধ্যনগর বাজার থেকে ৮:৩০ এর মধ্যে রওনা হই সময় মত স্কুলে গিয়ে পৌঁছে যাই। আজকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে স্কুলে যেতে একটু বিলম্ব হয়েছে। জগন্নাথপুরের সামনে গিয়ে আমাদের মেশিনটি নষ্ট হয়ে যায়।