মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে লায়েছ ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজকে জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন লায়েছ ভূঁইয়া কল্যাণ ট্রাস্টের সেক্রেটারি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মধ্যনগর উপজেলা শাখার সেক্রেটারি আলী হোসেন। প্রকাশিত সংবাদে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপনের অভিযোগও করেন তিনি।
শনিবার ১৫ আগস্ট মধ্যনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আলী হোসেন বলেন, গত ৬ আগস্ট দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর পত্রিকায় লায়েছ ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এবং তাকে জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদটি ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’।
তিনি দাবি করেন, লায়েছ ভূঁইয়া কল্যাণ ট্রাস্টের জনকল্যাণমূলক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তাকে ও প্রতিষ্ঠানকে হেয় করার উদ্দেশ্যে সংবাদটি প্রকাশ করিয়েছে।
আলী হোসেন অভিযোগ করেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. শাহীন উদ্দিনের বক্তব্যও বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তার দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে অধ্যক্ষের কথোপকথন বা কল রেকর্ডের বক্তব্য পরিবর্তন করে প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, প্রকাশিত সংবাদে তার ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অভিযোগ যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি এবং সংবাদ প্রকাশের আগে তার বক্তব্যও নেওয়া হয়নি। এতে প্রতিষ্ঠানের সুনাম এবং প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক হিসেবে তার সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, “সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ জাতির দর্পণ। কোনো অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য নিয়ে তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করা উচিত।”
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষ মো. শাহীন উদ্দিন বলেন, লায়েছ ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ প্রতিবছর ভালো ফলাফল করে এলাকায় শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুনাম অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানের ট্রাস্টের সঙ্গে সমন্বয় করে তিনি প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নে কাজ করছেন বলেও জানান।
অধ্যক্ষ আরও দাবি করেন, সংবাদ প্রকাশের আগে সাংবাদিক আতাউর বাশার তাকে ফোন করেছিলেন। তিনি অসুস্থ থাকায় প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে হলে অফিসে আসতে বলেছিলেন। তবে সাংবাদিক অফিসে না এসে তার বক্তব্য বিকৃতভাবে প্রকাশ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান অধ্যক্ষ।
তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই আলী হোসেনের সঙ্গে লায়েছ ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তার অবদানের কারণেই একটি মহল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তাকে ও প্রতিষ্ঠানকে হেয় করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আলী হোসেন বলেন, “মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
তিনি প্রশাসনের প্রতি প্রকাশিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের আহ্বান জানান। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আবু তাহের বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি সুশৃঙ্খল ও আদর্শিক রাজনৈতিক দল। দলের উপজেলা সেক্রেটারি আলী হোসেনকে জড়িয়ে মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করা হয়ে থাকলে এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন লায়েছ ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের বাংলা প্রভাষক সাইদুল ইসলাম, ইসলামের ইতিহাসের প্রভাষক আলামিন, অফিস সহকারী সুমন, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট আব্দুল মুসাব্বির, সাংগঠনিক সম্পাদক সম্রাট আলম, দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি আবু হানিফা, মধ্যনগর সদর ইউনিয়ন সভাপতি কবির শাহ, চামরদানী ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি আবু তাহেরসহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী ও জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।