কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে নির্মমভাবে হত্যার দায়ে মো. আজাদ নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সুলতান উদ্দীন প্রধান এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. আজাদ আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মো. আজাদ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের মো. কবির হোসেনের ছেলে। ২০২৩ সালের ২৭ জুলাই দিবাগত রাতে পারিবারিক বিরোধের জেরে তার স্ত্রী ও তিন সন্তানের জননী তানিয়া বেগমকে বৈদ্যুতিক তার দিয়ে হাত-পা বেঁধে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পর নিহত তানিয়া বেগমের মা মায়া বেগম বাদী হয়ে তার জামাতা মো. আজাদকে আসামি করে চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও তদন্তে তানিয়া বেগমের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে নিশ্চিত হওয়া যায়। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামি আজাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালতে মামলার সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ, জেরা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করা হয়। সবশেষে আদালত আসামি মো. আজাদকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
রায় ঘোষণার পর বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. এনামুল হক সরকার ও নিহতের স্বজনরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
তারা বলেন, দীর্ঘ অপেক্ষার পর আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন। একই সঙ্গে তারা দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান।
নিহত তানিয়া বেগমের স্বজনরা আশা প্রকাশ করেন, এ রায় সমাজে নারী নির্যাতন ও পারিবারিক সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা হিসেবে কাজ করবে।