কুমিল্লা প্রতিনিধি : অপরাধ দমন, মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ এবং নিরাপদ মহাসড়ক নিশ্চিত করতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরা ও সিসিটিভি নজরদারি জোরদার করেছে সরকার।
মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ ১৬টি পয়েন্টে স্থাপন করা হয়েছে অত্যাধুনিক এআই ক্যামেরা। এ সব ক্যামেরার মাধ্যমে কন্ট্রোল রুম থেকে ২৪ ঘণ্টা মহাসড়কের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সাইনবোর্ড থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বর্তমানে ১ হাজার ৪২৭টি সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। এর পাশাপাশি প্রতি ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার পরপর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ১৬টি এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
প্রযুক্তিনির্ভর এ নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনের গতিবিধি ও বিভিন্ন অনিয়ম শনাক্ত করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এআই ক্যামেরার মাধ্যমে শুধু অতিরিক্ত গতিতে চলাচলকারী যানবাহনই নয়, সন্দেহভাজন যানবাহনের তথ্যও দ্রুত হাইওয়ে পুলিশের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।
মাদক চোরাচালান বা অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো যানবাহনের তথ্য পাওয়া গেলে হাইওয়ে পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে গাড়িটি থামিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও এসব তথ্য আদান-প্রদান করা হচ্ছে।
মো. সবুজ মিয়া, হাইওয়ে পুলিশ সার্জেন্ট, কুমিল্লা রিজিয়ন বলেন, নতুন এ প্রযুক্তির মাধ্যমে যানবাহনের কাগজপত্রের মেয়াদসহ বিভিন্ন তথ্যও যাচাই করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিআরটিএর ডাটাবেজের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে মেয়াদোত্তীর্ণ কাগজপত্র শনাক্ত করা গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এ ক্ষেত্রে গাড়ির মালিকের মোবাইল ফোনে এসএমএস ও নোটিশ পাঠানোর ব্যবস্থাও থাকবে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ থাকবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী মঙ্গলবার, ১৮ ই আগস্ট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা করার কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে মহাসড়কে যানবাহনের আইনভঙ্গের ঘটনা শনাক্ত হলে প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হবে।
এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন মহাসড়কে চলাচলকারী চালকরাও।
তাদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানো হলে মাদক কারবারি, চোরাচালানকারীসহ অপরাধীদের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে। পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাও বাড়বে।
মোহাম্মদ শাহিনুর আলম খান, হাইওয়ে পুলিশ সুপার, কুমিল্লা রিজিয়ন বলেন, আধুনিক এই নজরদারি ব্যবস্থা পুলিশের কার্যক্রমকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করবে। বিশেষ করে ডাকাতি, মাদক পরিবহন, চোরাচালান ও অন্যান্য মহাসড়ককেন্দ্রিক অপরাধ প্রতিরোধে এআই ক্যামেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, আধুনিক প্রযুক্তি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মহাসড়কে আইনভঙ্গ ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য মহাসড়কেও এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হলে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি অপরাধ ও মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।